Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাস্তায় শুকাচ্ছে আখের ছোবড়া, ধনীরামপুর-ভাদুড়িয়াপাড়াগামী সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

রাস্তায় শুকাচ্ছে আখের ছোবড়া, ধনীরামপুর-ভাদুড়িয়াপাড়াগামী সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: দূর থেকে দেখলে মনে হবে আখের ছোবড়া শুকানোর চাতাল। তবে কাছে গেলেই ভাঙবে সেই ভ্রম। চাতাল নয়, এ যে কালো পিচ রাস্তার উপরে আখের ছোবড়ার আস্তরণ। জ্বালানির জন্য ওই ছোবড়া রাস্তায় শুকোতে দিয়েছেন গুড় ব্যবসায়ীরা। দিনের পর দিন রাস্তা দখল করে এভাবে আখের ছোবড়া ফেলে রাখায় কার্যত চলাফেরা করাই দায় হয়ে পড়েছে সাগরপাড়ার ধনীরামপুর থেকে ভাদুড়িয়াপাড়াগামী রাস্তায়। রাস্তাজুড়ে এভাবে আখের ছোবড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কাও। রাস্তা থেকে দ্রুত ওই আখের ছোবড়া সারানোর দাবি জানাচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।
Advertisement
প্রসঙ্গত, সাগরপাড়ার ধনীরামপুর থেকে জলঙ্গির ভাদুড়িয়াপাড়াগামী ওই রাস্তার দু’পাশে রয়েছে আখের গুড়ের একাধিক কারখানা। প্রতিদিন ওই কারখানাগুলিতে আঁটিআঁটি আখ থেকে রস বের করে তা দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। কারখানায় রস গরম করে গুড় তৈরির জন্য প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন হয়। আর এখানেই কাজে আসে আখের ছোবড়া। রস নিংড়ে নেওয়ার পর আখের যে ছোবড়া পড়ে থাকে সেগুলিকে রোদে শুকোলে জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। রোদে ওই ছোবড়া শুকোতে গেলে প্রয়োজন বড় খোলা জায়গা। যেখানে ভালোভাবে সূর্যতাপে সেগুলি শুকোতে পারে। কিন্তু আশেপাশে খোলা জায়গা না থাকায় কারখানার সামনের রাস্তাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আখের ছোবড়া শুকোতে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কালো পিচের রাস্তায় শুকোতে দেওয়া ওই আখের ছোবড়ার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। আখের ছোবড়া অনেকটা পিচ্ছিল, কাজেই তার ওপরে ব্রেক কষলেই চাকা স্লিপ করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যা নিয়ে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা।
এক বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, আমার ডোমকলে দোকান রয়েছে। প্রতিদিন ধনীরামপুর থেকে ওই রাস্তা ধরে বাইকে যাওয়া আসা করি। রাস্তার উপরে এভাবে আখের ছোবড়া থাকায় তার উপরে বাইক উঠলেই স্লিপ কেটে যাচ্ছে। দিন কয়েক আগেই বাইকের চাকা পিছলে গিয়ে কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছি। রাস্তা থেকে ওই আখের ছোবড়া সারানোর জন্য পুলিস-প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অপর এক বাসিন্দা বলেন, ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। এভাবে মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করে ব্যবসা করা যায় না।
এলাকার এক গুড় ব্যবসায়ী বলেন, কী করব দাদা বলুন? আশপাশে সেভাবে খোলা মাঠ নেই। আর থাকলেও অনেকটা দূরে। নিংড়ে নেওয়ার পর আখের ছোবড়া অতদূর নিয়ে যেতে আবার প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার আগে গুছিয়ে নিয়ে আসতে অনেকটা সমস্যা হয়। তার থেকে কারখানার সামনের রাস্তার এক সাইডে রেখে শুকোতে দিই। এতে তো খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না।
যদিও জেলা পুলিসের আধিকারিক বলেন, এভাবে রাস্তার উপরে কোনও সামগ্রী ফেলে রাখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার সম্ভবনা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ