নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে মদ্যপান করছে যুবকরা। তারপর স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং করছে। এর প্রতিবাদ করেও সুফল পাননি পাঁশকুড়া থানার রাজশহর গ্রামের বাসিন্দারা। অগত্যা গ্রাম কমিটি মিটিংয়ে বসে এনিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। গ্রামের রাস্তায় প্রকাশ্যে মদ্যপান করলে ৫০০১টাকা জরিমানা। মদ খাওয়া অবস্থায় কাউকে ধরিয়ে দিলে ১০০১টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। মাইসোরা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রাজশহর গ্রামে এনিয়ে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। অপসংস্কৃতির হাত থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছে গ্রাম কমিটিই। তাদের অভিযোগ, থানায়, পঞ্চায়েতে এনিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও কোনও কাজ হয়নি। প্রকাশ্যে মদ্যপান বন্ধ ও মেয়েদের সুরক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রাম কমিটি।
Advertisement
মাইসোরা পঞ্চায়েতের মনসাপুকুর থেকে সোজা পিচ রাস্তা চলে গিয়েছে রাজশহর গ্রামে। এই রাস্তার ধারে দিনেরবেলা অবাধে মদ্যপান চলছে বলে অভিযোগ। মদের বোতল ভেঙে চাষের জমিতে ফেলা হচ্ছে। তাতে চাষের কাজে মাঠে নামা চাষিদের হাত-পা কাটছে। এই রাস্তার উপর দিয়ে পাটনা হাইস্কুল এবং পাটনা কৃষ্ণচরণ বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীরা যাতায়াত করে। ছাত্রীদের লক্ষ্য করে ইভটিজিং চলছে। সম্প্রতি এক ছাত্রী টিউশনি পড়ে ফেরার পথে তার হাত ধরে টানাটানি করে কয়েকজন যুবক। একের পর এক ঘটনায় রাজশহর গ্রামের বাসিন্দাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। প্রকাশ্যে মদ্যপান বন্ধ করতে গ্রাম কমিটির নামে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। গ্রামে প্রকাশ্যে মদ্যপান করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশহর গ্রাম কমিটির কোষাধ্যক্ষ লক্ষ্মীকান্ত হাজরা বলেন, মনসাপুকুরে একটি মদের দোকান আছে। সেখানে মদ কিনে যুবকরা রাজশহর গ্রামে চলে আসছে। রাস্তার ধারে বসে প্রকাশ্যে মদ্যপান করছে। স্কুলে যাতায়াতের পথে ছাত্রী থেকে গ্রামের যুবতী ও বধূদের ইভটিজিং করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি থানায় জানিয়েছিলাম। কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারপর মাইসোরা পঞ্চায়েতকে জানানো হয়। কিন্তু, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষমেশ গ্রাম কমিটি আলোচনায় বসে নিজেরাই এই অপসংস্কৃতি রুখতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। সেইমতো গ্রামে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। মদ্যপান করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
রাজশহর গ্রামের চাষি অভিজিৎ সাউ বলেন, এখানে রাস্তার ধারে বসে মদ খাওয়ার পর বোতল ভেঙে জমিতে ফেলা হচ্ছে। সেই ভাঙা বোতলে আমাদের হাত-পা কাটছে। পর পর এরকম বেশ কয়েকটা ঘটনা ঘটল। বিজেপির পশ্চিম পাঁশকুড়া মণ্ডল-৪ সভাপতি গোপাল সাহু বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় মদের জোগান ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গ্রামগঞ্জেও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মদ্যপদের উৎপাত চলছে। রাজশহর গ্রামবাসীরা মদ্যপদের উৎপাত নিয়ে থানায় নালিশ করেছিলেন। তারপরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁশকুড়া ব্লক সভাপতি সুজিত রায় বলেন, রাজশহর গ্রামের বাসিন্দারা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা সাধুবাদযোগ্য। গ্রামের মানুষ এগিয়ে এলে যে কোনও অপসংস্কৃতি রোখা সহজ। মানুষ সচেতন না হলে একটা থানার পক্ষে সব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। গ্রামের বাসিন্দাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
রাজশহর গ্রাম কমিটির কোষাধ্যক্ষ লক্ষ্মীকান্ত হাজরা বলেন, মনসাপুকুরে একটি মদের দোকান আছে। সেখানে মদ কিনে যুবকরা রাজশহর গ্রামে চলে আসছে। রাস্তার ধারে বসে প্রকাশ্যে মদ্যপান করছে। স্কুলে যাতায়াতের পথে ছাত্রী থেকে গ্রামের যুবতী ও বধূদের ইভটিজিং করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি থানায় জানিয়েছিলাম। কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারপর মাইসোরা পঞ্চায়েতকে জানানো হয়। কিন্তু, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষমেশ গ্রাম কমিটি আলোচনায় বসে নিজেরাই এই অপসংস্কৃতি রুখতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। সেইমতো গ্রামে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। মদ্যপান করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
রাজশহর গ্রামের চাষি অভিজিৎ সাউ বলেন, এখানে রাস্তার ধারে বসে মদ খাওয়ার পর বোতল ভেঙে জমিতে ফেলা হচ্ছে। সেই ভাঙা বোতলে আমাদের হাত-পা কাটছে। পর পর এরকম বেশ কয়েকটা ঘটনা ঘটল। বিজেপির পশ্চিম পাঁশকুড়া মণ্ডল-৪ সভাপতি গোপাল সাহু বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় মদের জোগান ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গ্রামগঞ্জেও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মদ্যপদের উৎপাত চলছে। রাজশহর গ্রামবাসীরা মদ্যপদের উৎপাত নিয়ে থানায় নালিশ করেছিলেন। তারপরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁশকুড়া ব্লক সভাপতি সুজিত রায় বলেন, রাজশহর গ্রামের বাসিন্দারা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা সাধুবাদযোগ্য। গ্রামের মানুষ এগিয়ে এলে যে কোনও অপসংস্কৃতি রোখা সহজ। মানুষ সচেতন না হলে একটা থানার পক্ষে সব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। গ্রামের বাসিন্দাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।



