Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রিসর্ট কর্মীর রহস্য মৃত্যু নিয়ে ধন্দে পুলিস

রিসর্ট কর্মীর রহস্য মৃত্যু নিয়ে ধন্দে পুলিস
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: সম্প্রতি হাতিঘিসার এক রিসর্ট কর্মীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও ধন্দে পুলিস। ভিনরাজ্যের অনেকে নকশালবাড়িতে বসতি গড়ে রমারমা হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন। কেউ আবার হোম-স্টে এবং রিসর্টও খুলে বসেছেন। অভিযোগ, নজরদারির অভাবে সেখানে চলছে দেদার মদ বিক্রি। চলছে দেহ ব্যবসাও। সিসিক্যামেরার পর্যাপ্ত নজরদারি অভাব রয়েছে। তার জেরে নানা অপরাধমূলক কাজকর্ম চলছে। এই ঘটনায় পুলিস ও আবগারি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সরব বিভিন্ন মহল। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে অভিযানের আশ্বাস দিয়েছেন নকশালবাড়ির এসডিপিও নেহা জৈন। তিনি বলেন, নকশালবাড়িতে কতগুলি রেস্তোরাঁ, হোটেল রয়েছে। তা আমার জানা নেই। সেখানে কী কারবার চলছে সেটাও জানি না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।
Advertisement
নকশালবাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ভিনরাজ্য থেকে এসে অনেকে বাড়ি ঘর গড়েছেন। আয়ের উৎস জোগাতে গ্রামীণ এলাকায় রেস্তোরাঁ, হোটেল, রিসর্ট এবং হোম স্টে খুলছেন। একসময় নকশালবাড়িতে রাত কাটানোর মতো হোটেল পাওয়া যেত না। এখন হোটেলের সংখ্যা হাতে গুনেও শেষ করা যাবে না। সাতভাইয়ায় রয়েছে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ। কিছু দূরে স্কুলডাঙ্গির পাশে রয়েছে বড় দু’টি রেস্তারাঁ কাম হোটেল। এছাড়া সাতভাইয়া টোলগেট সংলগ্ন এলাকায় গজিয়ে উঠেছে একাধিক ধাবা। নকশালবাড়ির পানিঘাটা মোড় থেকে কদমা পর্যন্ত একাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুঁষো, এরমধ্যে কদমার রেস্তোরাঁ নাকি দেদার মদ বিক্রির জন্য খ্যাত। অভিযোগ, পুলিসের কাছে সেই খবর থাকলেও অভিযান হয় না। সাতভাইয়া, জাবড়া, নিহালজোত, দক্ষিণ রথখোলা, কোয়ার্টার মোড়, লালপুল ক্যানালে একাধিক রেস্তোরাঁয় অবৈধভাবে মদের কারবার চলছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, নকশালবাড়ির রাজ্যসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের পাশের কিছু হোটেলে রাত পোহালেই চলছে দেহ ব্যবসা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
৬ নভেম্বর রাতে হাতিঘিসার বীরসিংজোতে একটি রিসর্টের কর্মীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয় লোহার গেট পড়ে কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সিসিক্যামেরা বিকল থাকায় এখনও ধন্দে পুলিস। আগামী দুই একদিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই পুলিসের তদন্তে বেগ আসবে। তবে এই ঘটনার পর সিসিক্যামেরার নজরদারি নিয়ে কোনও অভিযান চালায়নি পুলিস। যদিও মাঝেমধ্যেই পুলিস ও আবগারি দপ্তরের অভিযান চললেও সেটাকে আইওয়াশ বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। এই ব্যাপারে নকশালবাড়ি আবগারি দপ্তরের ওসি সঞ্জয় সাহা বলেন, নকশালবাড়িতে চারটি রেস্তোরাঁর বার লাইসেন্স রয়েছে। একেইসঙ্গে আরও দু’টি লাইসেন্স পেতে চলছে। যাদের লাইসেন্স নেই, সেই সমস্ত হোটেল, ধাবা, রিসর্টে আমরা অভিযান চালাই। হাতিঘিসার ওই রিসর্টে দিন দশেক আগেও অভিযান গিয়েছিলাম। তবে কিছু পাওয়া যায়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ