Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাসায়নিক সার, কীটনাশক ছেড়ে জৈবচাষে ঝোঁক, মিলছে রাজ্য কৃষিদপ্তরের অনুদানও

রাসায়নিক সার, কীটনাশক ছেড়ে জৈবচাষে ঝোঁক, মিলছে রাজ্য কৃষিদপ্তরের অনুদানও
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিতাই দাস, সিউড়ি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছেড়ে জৈবচাষে ক্রমশ ঝোঁক বাড়ছে বীরভূমের কৃষকদের। ইতিমধ্যে সিউড়ি মহকুমার খয়রাশোল এবং রাজনগরের ৫ হাজার ৩৩০ জন কৃষক নিয়মিত জৈব সার নির্ভর ফসল ফলিয়ে চলেছেন। সাফল্যও পেয়েছেন। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা আগামীদিনে এমন কৃষকদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এবার দুবরাজপুরের চাষিদের জৈবচাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে। প্রকল্পের সার্বিক শ্রীবৃদ্ধিতে মোটা অঙ্কের অনুদানও দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের তরফে। ইতিমধ্যে খয়রাশোলের ২ হাজার ৮৩০ জন চাষি সেই অনুদান  পেয়েছেন। রাজনগরের চাষিরাও কিছুদিনের মধ্যে পাবেন। কৃষি আধিকারিকরা বলছেন, জৈবচাষের শুরুতে ফলন কিছুটা কম হলেও পরে ফলন ভালো হচ্ছে। তাতে কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যেটা কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ভালো খবর।  
Advertisement
ফলন বাড়াতে রাসায়ানিক সার ও কীটনাশকের নিয়ন্ত্রণহী ব্যবহার হচ্ছে সর্বত্র। তাতে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি জনস্বাস্থ্যেও কুপ্রভাব ফেলছে। অতি রাসায়নিক প্রয়োগে উৎপাতিত শাক-সব্জি খেয়ে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরম্পরাগত কৃষি পদ্ধতিকেই শ্রেষ্ঠ উপায় বলে মানছেন কৃষি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। সেই কারণেই সিউড়ি মহকুমায় পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনার আওতায় কৃষকদের আনার কাজ শুরু করেছে কৃষিদপ্তর। ২০২২-২০২৩ অর্থবর্ষ থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে। 
সিউড়ির এক কৃষিকর্তা  জানিয়েছেন, জৈব চাষে কৃষকরা এগিয়ে এলে হেক্টর প্রতি ৮ হাজার ৪০০ টাকার চাষের উপকরণ দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা আগ্রহী হচ্ছেন। এই মূহুর্তে নির্দিষ্ট ব্লকে হাজার হেক্টর জমি চিহ্নিত করে জৈব চাষের কাজ চালানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে ৫০টি করে দল তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি দলের জন্য ২০ হেক্টর জমি বরাদ্দ থাকছে। সেই জমিতেই জৈবসার সহ কীটনাশক ব্যবহার করে তাঁরা মরশুমি ফসল চাষে জোর দিয়েছেন। তবে, শুরুতেই ধুনা চাষের মাধ্যমে জমির স্বাস্থ্য ফেরানোর কাজ করে নেওয়া হচ্ছে। বীজ বপনের পর থেকে প্রায় ৪৫ দিনের মাথায় তা জমিতেই কেটে ফেলা রাখা হচ্ছে। পরে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে জমিকে জৈব চাষের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হচ্ছে। 
সহ কৃষি আধিকর্তা চঞ্চল প্রামাণিক বলেন, ‘মাটির স্বাস্থ্য ফেরানো সহ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই জৈব চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সাফল্য আসতেই কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অতিদ্রু ত দুবরাজপুরের কৃষকদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে।’ খয়রাশোলের কৃষক সজল মণ্ডল বলেন, ‘জৈব চাষের মাধ্যমে ফসল ফলিয়ে ভালোই লাগছে। গোবিন্দভোগ চাল থেকে শুরু করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমাটো সব বিভিন্ন ফসল চাষ করেছি। খরচ পড়ছে অনেকটাই কম। ফসলও হচ্ছে আশানুরূপ।’  
সম্পর্কিত সংবাদ