Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেশনের বদলে টাকা, অভিযান দাবি উপভোক্তাদের

রেশনের বদলে টাকা, অভিযান দাবি উপভোক্তাদের
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: রেশন তুলতে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিতেই কর্মীদের প্রশ্ন, টাকা নেবেন? নাকি চাল?  টাকা বলতেই চালের ওজন অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে অর্থ। এভাবেই দুয়ারে রেশন থেকে সরাসরি রেশন সামগ্রীর পরিবর্তে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। আবার দুয়ারে রেশনের দোকানের আশেপাশেই ফড়েদের ভিড়। তারা অনেক সময় সরাসরি সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় রেশন ডিলাররা নির্দিষ্ট সময়ে যাচ্ছেন না। প্রাপ্য সামগ্রী না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিযোগ, সামগ্রী নিতে চাইলেও জোর করে টাকা দিচ্ছেন ডিলাররা। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলা খাদ্য নিয়ামকের কাছে এমন বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে, অথচ কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। জেলা খাদ্য নিয়ামক ফুরবা ভুটিয়া বলেন, এমন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আমরা তপনে ব্যবস্থা নিয়েছি। সব জায়গাতেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। যে উপভোক্তা টাকা নিচ্ছেন, তাঁদের কার্ডও সাসপেন্ড হয়ে যাবে। 
এবিষয়ে বালুরঘাট শহরের রঘুনাথ মন্দির এলাকার বিপ্লব সূত্রধর বলেন, আমাদের এলাকায় রেশন ডিলার মাসে একদিন আসেন। সকালে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর দেখা পাওয়া যায় না। এরপর অল্প রেশন সামগ্রী দিতে না দিতেই শেষ। ফলে একাংশ উপভোক্তাকে সামগ্রীর পরিবর্তে টাকা দিয়ে চলে যান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া হয় না, উপরন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। 
প্রশাসন সূত্রে খবর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তিনশোর বেশি রেশন ডিলার রয়েছে। সব জায়গাতেই দুয়ারে রেশন চালু রয়েছে। জেলার প্রায় ১৬ লক্ষের বেশি মানুষ দুয়ারে রেশন পরিষেবা পান। উপভোক্তাদের চাল অথবা গম দেওয়া হয়। তাই রেশন ডিলারদের একাংশ সরাসরি চাল বা গম ব্যবসায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। বেঙ্গল ফেয়ার প্রাইস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক মিহির কুমার দাস বলেন, এনিয়ে আমরা কোনও অভিযোগ পাইনি। বায়োমেট্রিকের সাহায্যে রেশন দেওয়া হয়। এররপর কোথায় কী হচ্ছে, সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। তবে কেউ অনিয়ম করে থাকলে প্রশাসন নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবে।
সম্পর্কিত সংবাদ