নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রেশন দুর্নীতি মামলা রাজ্যের অন্যতম আলোচ্য বিষয়বস্তু। সেই আবহে রেশন ডিলার এবং ডিলারশিপ কানুন নিয়ে কড়া রাজ্যের খাদ্যদপ্তর। পরিসংখ্যান বলছে, কেবলমাত্র রানাঘাট মহকুমা এলাকাতেই ২০২৪ সালে বহু ডিলারকে ফাইন করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার জরিমানা আদায় হয়েছে। একাধিক নিয়ম ভাঙার কারণে মহকুমা খাদ্য বিভাগের কোপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের।
Advertisement
খাদ্য সরবরাহ দপ্তর রেশন বণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিককালে বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন ডিলারের বিরুদ্ধে যেমন মাঝেমধ্যেই নানা অভিযোগ ওঠে, তেমনই নির্দিষ্ট নিয়ম না মানার কারণে রেশন বণ্টনে প্রভাব পড়ার ব্যাপারটিকে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে এরকমই একাধিক রেশন বন্টন কানুন ভাঙার কারণে কোপের মুখে পড়তে হয়েছে রানাঘাট মহকুমার প্রায় ৩৪ জন রেশন ডিলারকে। নির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বড়সড় আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবলমাত্র একজন ডিলারকেই জরিমানা গুনতে হয়েছে, ৩ লক্ষ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। তা ২০২৪ সালে আদায় হওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ। এই ডিসেম্বর মাসেই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ওই ডিলারের হাতে ধরানো হয়েছে জরিমানার নোটিস। পূর্ণ পরিসংখ্যান নিয়ে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, রানাঘাট ১, রানাঘাট ২, শান্তিপুর, হাঁসখালি, এই চারটি ব্লক মিলিয়ে রয়েছেন জরিমানার কোপে পড়া ৩৪ জন ডিলারের তালিকায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন রীতিমতো বড়সড় ডিলার। সব মিলিয়ে কত টাকা আদায় হয়েছে এই বছর? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্তা বলেন, আমরা এই বছর জরিমানা বাবদ সবমিলিয়ে ১৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭৫৬ টাকা আদায় করেছি। বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি এবং নিয়ম না মানার কারণে নোটিস ধরানো হয়েছিল ডিলারদের। তবে বিপুল এই অর্থ আদায়ের গরিষ্ঠাংশ হয়েছে ডিসেম্বর মাসেই।! হিসাব বলছে, বছরের শেষ মাসে দপ্তরের ঝুলিতে জমা পড়েছে, ৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৮৯১ টাকা। যেহেতু এই মাসে সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে শান্তিপুরের অরূপ সাহা নামের এক ব্যক্তি। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার জরিমানা গুনতে হয়েছে তাকে।
কোন কোন নিয়ম না মানায় ডিলারদের জরিমানা হয়েছে? জানা গিয়েছে, গ্রাহক তালিকা প্রকাশ্যে না টাঙানো, ডিলারের ফোন নম্বর লেখা বোর্ড না থাকা, নির্দিষ্ট স্টকের হিসাব না রাখা সহ ১৩টি বিষয়ে জরিমানা করা হয়েছে। তাই নিয়ে বছরভর অভিযান চালায় খাদ্যদপ্তর। নিয়ম লঙ্ঘন থাকলে শোকজ করা হয় বহু রেশন ডিলারকে। এছাড়া আর্থিক জরিমানা তো রয়েছেই। সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট মহকুমা খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক রাজদীপ মেহতা বলেন, দপ্তরের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, সেটা মানতেই হবে। আমাদের বছরে বিভিন্ন সময়ে তাই নজরে রাখা হয় সকলের সেই নিয়ম মানছেন কি না। কেউ নিয়ম না মানলে জরিমানা করার বিষয় থাকেই। ২০২৪ সালে আমাদের সেই জরিমানা করার তালিকাটা বেশ বড়ই হয়েছে এবং তার থেকে আদায়ের অঙ্কটাও নেহাত কম নয়। আশা করছি, সমস্ত রেশন ডিলার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ করবেন।
কোন কোন নিয়ম না মানায় ডিলারদের জরিমানা হয়েছে? জানা গিয়েছে, গ্রাহক তালিকা প্রকাশ্যে না টাঙানো, ডিলারের ফোন নম্বর লেখা বোর্ড না থাকা, নির্দিষ্ট স্টকের হিসাব না রাখা সহ ১৩টি বিষয়ে জরিমানা করা হয়েছে। তাই নিয়ে বছরভর অভিযান চালায় খাদ্যদপ্তর। নিয়ম লঙ্ঘন থাকলে শোকজ করা হয় বহু রেশন ডিলারকে। এছাড়া আর্থিক জরিমানা তো রয়েছেই। সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট মহকুমা খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক রাজদীপ মেহতা বলেন, দপ্তরের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে, সেটা মানতেই হবে। আমাদের বছরে বিভিন্ন সময়ে তাই নজরে রাখা হয় সকলের সেই নিয়ম মানছেন কি না। কেউ নিয়ম না মানলে জরিমানা করার বিষয় থাকেই। ২০২৪ সালে আমাদের সেই জরিমানা করার তালিকাটা বেশ বড়ই হয়েছে এবং তার থেকে আদায়ের অঙ্কটাও নেহাত কম নয়। আশা করছি, সমস্ত রেশন ডিলার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ করবেন।



