Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেশম চাষে মিলছে সরকারি সহায়তা, আগ্রহ দেখাচ্ছেন সাগরপাড়ার চাষিরা

রেশম চাষে মিলছে সরকারি সহায়তা, আগ্রহ দেখাচ্ছেন সাগরপাড়ার চাষিরা
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: মিলছে সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ। তাতেই রেশম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন সাগরপাড়ার চাষিরা। শুধু আগ্রহই নয়, রেশম পলু চাষ করে রীতিমতো স্বনির্ভর হচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের দেখে আবার এগিয়ে আসছেন অন্যরা। একদিকে সরকারি সহায়তা, উল্টোদিকে লাভজনক হওয়ায় এভাবেই বছর কয়েকের ব্যবধানে অনেকেই অন্য চাষ ছেড়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন রেশম চাষে।
Advertisement
জলঙ্গি ব্লকের সাগরপাড়া বাজারেই কয়েক বিঘা এলাকাজুড়ে রয়েছে সরকারি রেশম খামার। এখানে তুঁত চাষের পাশাপাশি পলু পোকা চাষ করা হয়। শুধু চাষ নয়, ওই পোকা সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ডিম থেকে নতুন বাচ্চা উৎপাদন— সব ব্যবস্থা এই অফিসে রয়েছে। এই খামার থেকেই এলাকার আগ্রহী চাষিদের সমস্ত রকম পরিষেবা দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রথমদিকে এলাকার চাষিরা গতানুগতিক চাষ ছেড়ে রেশম চাষ করতে আগ্রহী ছিলেন না। খুব কম সংখ্যক চাষি এই চাষ শুরু করেন। তবে ধীরে ধীরে রেশম চাষের লাভ দেখে অনেক এগিয়ে আসেন। 
পাশপাশি তাঁদের আরও দাবি, একদিকে যেমন এই চাষ লাভজনক, তেমনি রয়েছে সরকারি সহায়তা। কেউ পলু চাষ করতে চাইলে তাঁকে সরকারিভাবে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিনামূল্যে। এরপরে ডালা, চন্দ্রকি, চাকি নেট, ফোমপ্যাট, প্যারাফিন পেপারের মতো সরঞ্জাম দেওয়া হয় বিনামূল্যে। পলুর ডিমও এখান থেকেই ভর্তুকিতে পেয়ে যান চাষিরা। রেশম চাষে আগ্রহ বাড়াতে ও খরচ কমাতে ওয়াটার পাম্প থেকে শুরু করে ফ্যানও দেওয়া হয় চাষিদের।
কীভাবে এই পোকার চাষ করা হয়? চাষিরা জানাচ্ছেন, প্রথমে খামার থেকে পলুর তুঁত গাছের কান্ড, পলুর ডিম নিয়ে এসে জমিতে তা পুঁতে চাষ করা হয়। পাশপাশি ডিম ফুটে ডালায় বাচ্চা তোলা হয়। পরে সেই ডালার ওপরেই পলুর খাবার তুঁত গাছ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে ডালার মধ্যেই পলু পোকা বড় হয়ে ওঠে। এবং শেষে গিয়ে গুটি তৈরি করে। ওই গুটিগুলি থেকেই পরবর্তীতে রেশমের সুতো তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, অন্যান্য চাষ যখন বছরে একবার কিংবা দু’বার করা যায়, তখন রেশমের চাষ বছরে পাঁচ বার করা হয়। সাধারণত গরমে ২০ থেকে ২৫ দিন ও শীতে ৩০-৩২ দিনে পোকা থেকে রেশম গুটি তৈরি হয়। পরে সেই গুটি সরকারি অফিস থেকেই কিনে নেওয়া হয়।
সাগরপাড়ার চক চৈতন্যের চাষি গোলাম রসুল শেখ বলেন, রেশম চাষ অন্যান্য চাষের থেকে অনেক বেশি লাভজনক। কেউ যদি সরকারি অফিস থেকে ভর্তুকিতে ৩০০ ডিম কিনে চাষ শুরু করেন, তাহলে সব কিছু মিলিয়ে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে গুটি হওয়ার পরে অন্তত ৪০ হাজার টাকা উঠে আসে। আগে ততটা লাভ ছিল না। তবে বর্তমানে এই চাষ লাভজনক। সাগরপাড়া মডেল গ্রেনেজের সেরিকালচার সার্ভিস প্রোভাইডার গোলাম কিবরিয়া বলেন, রেশম চাষে সরকারিভাবে অনেক সহায়তা করা হয় চাষিদের। তাঁদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ভর্তুকিতে ডিম, তুঁতের কাণ্ড দেওয়া হয়। ১০০০ পিস ডিম যেখানে খোলা বাজারে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, সেখানে সরকারিভাবে চাষিরা আমাদের থেকে মাত্র ২৫০ টাকায় নিতে পারেন। এছাড়াও একাধিক রেশম সরঞ্জাম আমরা বিনামূল্যে সরাবরাহ করে থাকি। এবছর নতুন করে আরও ৮ জন চাষি এই চাষে যুক্ত হয়েছেন।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ