সমীর সাহা, নবদ্বীপ: রাস্তাজুড়ে আলপনা, পুজোর পরিবেশ ও কার্নিভালের বিভিন্ন ট্যাবলো। এসমস্ত কিছু দিয়েই ঐতিহ্যপূর্ণ রাস উৎসবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে প্রাচীন মায়াপুরের শ্রীশ্রী শিবপূজা। নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাস উৎসবের উল্লেখযোগ্য পুজো এটি। প্রাচীন মায়াপুরের শ্রীশ্রী শিবপূজা কমিটির ‹শিব› এবারও পুরসভা পরিচালিত কার্নিভালে নজর কাড়বে বলে আশাবাদী কমিটির সদস্যরা। প্রথম থেকে রাসের কার্নিভালে অংশ নিয়ে দর্শকদের বিচারে এখনও পর্যন্ত চারবার পুরস্কৃত হয়েছে এই শিবপূজা কমিটি।
Advertisement
নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর বাজার মেন রোডের এই শিবপুজো ৩৩ বছরের প্রাচীন। এখানকার শিবমূর্তির উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট আর চওড়ায় ১৩ ফুট। এখানে শিবের চতুর্ভুজ মূর্তি। ধ্যানরত মুদ্রায় ব্যাঘ্রচর্ম আসনে পর্বত শিখরে বসে আছেন। শিবের চারহাতের একহাতে রয়েছে ত্রিশূল, আর এক হাতে ডোমরু, অন্য দু’ হাতের একহাতে কমণ্ডলু আর একহাতে বরাভয় মুদ্রা। শিবের পদতলে রয়েছে ষাঁড়রূপী নন্দী-ভৃঙ্গি।
এই পুজো শুরু করেছিলেন এলাকার বেশ কিছু প্রবীণ মানুষ। এই পুজো স্থানে ছোট একটা শিবের বেদি ছিল। সেখানে একটা ছোট্ট শিবলিঙ্গ ছিল। স্থানীয় মানুষ এখানে শিবরাত্রিতে শিবের মাথায় জল ঢালতেন। এমনকী শিবরাত্রিতে বড় অনুষ্ঠানও হতো। সেই বেদির উপরই এখন এই শিবপুজো হয়ে আসছে। তবে এখানে রাস পূর্ণিমা, শ্রাবণ পূর্ণিমা এবং শিবরাত্রিতে বছরে তিনবার শিবের পুজো হয়। রাস পূর্ণিমায় শিব পুজোর বিশেষত্ব হোমযজ্ঞ। রাস পূর্ণিমার দিন প্রথা অনুযায়ী বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে সেই প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হয়। স্থানীয় মহিলারা উপবাস থেকে শিবের কাছে অঞ্জলি দেন।
শিবপুজো কমিটির সম্পাদক সমরজিৎ মণ্ডল বলেন, আমরা শিবের ভক্ত। শিব সুন্দর এবং শান্ত। আমরা চাই বর্তমানে যে হানাহানির পরিবেশ তা থেকে মুক্ত হয়ে শান্ত পরিবেশ ফিরে আসুক। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাস পুজো। পরের দিন ১৬ নভেম্বর শনিবার নবদ্বীপের অধিকাংশ বারোয়ারির প্রতিমা আলোক সজ্জায় সাজিয়ে সন্ধ্যায় শোভাযাত্রায় (আড়ং) বের হয়। কিন্তু প্রথম থেকেই শিব ঠাকুরকে নিয়ে পুরসভা পরিচালিত কার্নিভালে অংশগ্রহণ করে আসছি। এবছর ১৮ নভেম্বর কার্নিভাল। ওই দিন মণ্ডপ থেকে লোহার বল বেয়ারিং গাড়িতে করে শিব নিয়ে কার্নিভালে অংশ নেব। এই শোভাযাত্রায় সাঁওতালি নাচ, হরিনাম সংকীর্তনের দল সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও একাধিক নাচের দল, সামাজিক বিভিন্ন ট্যাবলো, পাশাপাশি পরিবেশের উপর সময়োপযোগী ট্যাবলো থাকবে। কয়েক বছর ধরে আমরা পরিবেশের উপর বিভিন্ন ট্যাবলো গাছ লাগান, গাছ বাঁচান, কখনও প্লাস্টিক বর্জন, কখনও বা ডেঙ্গু সচেতনতা, কখনও জল অপচয় কোরো না এইসব সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে তুলে ধরেছি। পুজো কমিটির সদস্যা দীপশিখা মজুমদার বলেন, ছোট থেকে এখানে শিবপুজো দেখে আসছি। আমি বিদ্যুৎ দপ্তরের একজন কর্মী। বাইরে থাকলেও রাসে ছুটি নিয়ে চলে আসি। সবাই মিলে পুজোর সমস্ত আয়োজন করি। এই পুজো উপলক্ষ্যে শিবপুজো কমিটির সদস্যরা কয়েক দিন আগে থেকে রাত জেগে রাস্তাজুড়ে আলপনা দেন। গত বছর থেকে এই আলপনার ছোঁয়ায় পুজোর পরিবেশ যেন আলাদা রূপ নেয়। কার্নিভালের জন্য আমরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি। ছোটবড় সব বয়সি মহিলারা একই রঙের শাড়ি পরে কার্নিভালে অংশ নেন।
শিবপুজো কমিটি সভাপতি রাম ঘোষ বলেন, আমরা মহাপ্রভুর দেশের লোক। এই নবদ্বীপের রামচন্দ্রপুর বা প্রাচীন মায়াপুরে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান। সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্নিভালে মহাপ্রভুর জন্মস্থান এবং তার বিভিন্ন লীলাকে তুলে ধরা হয়।
এই পুজো শুরু করেছিলেন এলাকার বেশ কিছু প্রবীণ মানুষ। এই পুজো স্থানে ছোট একটা শিবের বেদি ছিল। সেখানে একটা ছোট্ট শিবলিঙ্গ ছিল। স্থানীয় মানুষ এখানে শিবরাত্রিতে শিবের মাথায় জল ঢালতেন। এমনকী শিবরাত্রিতে বড় অনুষ্ঠানও হতো। সেই বেদির উপরই এখন এই শিবপুজো হয়ে আসছে। তবে এখানে রাস পূর্ণিমা, শ্রাবণ পূর্ণিমা এবং শিবরাত্রিতে বছরে তিনবার শিবের পুজো হয়। রাস পূর্ণিমায় শিব পুজোর বিশেষত্ব হোমযজ্ঞ। রাস পূর্ণিমার দিন প্রথা অনুযায়ী বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পরে সেই প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হয়। স্থানীয় মহিলারা উপবাস থেকে শিবের কাছে অঞ্জলি দেন।
শিবপুজো কমিটির সম্পাদক সমরজিৎ মণ্ডল বলেন, আমরা শিবের ভক্ত। শিব সুন্দর এবং শান্ত। আমরা চাই বর্তমানে যে হানাহানির পরিবেশ তা থেকে মুক্ত হয়ে শান্ত পরিবেশ ফিরে আসুক। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাস পুজো। পরের দিন ১৬ নভেম্বর শনিবার নবদ্বীপের অধিকাংশ বারোয়ারির প্রতিমা আলোক সজ্জায় সাজিয়ে সন্ধ্যায় শোভাযাত্রায় (আড়ং) বের হয়। কিন্তু প্রথম থেকেই শিব ঠাকুরকে নিয়ে পুরসভা পরিচালিত কার্নিভালে অংশগ্রহণ করে আসছি। এবছর ১৮ নভেম্বর কার্নিভাল। ওই দিন মণ্ডপ থেকে লোহার বল বেয়ারিং গাড়িতে করে শিব নিয়ে কার্নিভালে অংশ নেব। এই শোভাযাত্রায় সাঁওতালি নাচ, হরিনাম সংকীর্তনের দল সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও একাধিক নাচের দল, সামাজিক বিভিন্ন ট্যাবলো, পাশাপাশি পরিবেশের উপর সময়োপযোগী ট্যাবলো থাকবে। কয়েক বছর ধরে আমরা পরিবেশের উপর বিভিন্ন ট্যাবলো গাছ লাগান, গাছ বাঁচান, কখনও প্লাস্টিক বর্জন, কখনও বা ডেঙ্গু সচেতনতা, কখনও জল অপচয় কোরো না এইসব সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে তুলে ধরেছি। পুজো কমিটির সদস্যা দীপশিখা মজুমদার বলেন, ছোট থেকে এখানে শিবপুজো দেখে আসছি। আমি বিদ্যুৎ দপ্তরের একজন কর্মী। বাইরে থাকলেও রাসে ছুটি নিয়ে চলে আসি। সবাই মিলে পুজোর সমস্ত আয়োজন করি। এই পুজো উপলক্ষ্যে শিবপুজো কমিটির সদস্যরা কয়েক দিন আগে থেকে রাত জেগে রাস্তাজুড়ে আলপনা দেন। গত বছর থেকে এই আলপনার ছোঁয়ায় পুজোর পরিবেশ যেন আলাদা রূপ নেয়। কার্নিভালের জন্য আমরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি। ছোটবড় সব বয়সি মহিলারা একই রঙের শাড়ি পরে কার্নিভালে অংশ নেন।
শিবপুজো কমিটি সভাপতি রাম ঘোষ বলেন, আমরা মহাপ্রভুর দেশের লোক। এই নবদ্বীপের রামচন্দ্রপুর বা প্রাচীন মায়াপুরে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান। সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্নিভালে মহাপ্রভুর জন্মস্থান এবং তার বিভিন্ন লীলাকে তুলে ধরা হয়।



