Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাথাপিছু ৮ হাজার টাকা, নতুন বছরে ‘গিফট’ কাউন্সিলারদের, পানিহাটিতে তীব্র বিতর্ক

সর্বত্র হতশ্রী দশা! খানাখন্দ ভরতি রাস্তা। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। অবরুদ্ধ নিকাশি। পানীয় জলের সমস্যা আকছার। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় বহু এলাকা।

মাথাপিছু ৮ হাজার টাকা, নতুন বছরে ‘গিফট’ কাউন্সিলারদের, পানিহাটিতে তীব্র বিতর্ক
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: সর্বত্র হতশ্রী দশা! খানাখন্দ ভরতি রাস্তা। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। অবরুদ্ধ নিকাশি। পানীয় জলের সমস্যা আকছার। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় বহু এলাকা। ভরা শীতেও নর্দমার জলে ভাসে রাস্তা। পানিহাটি পুরসভার নাগরিক পরিষেবার সার্বিক হাল এমনই। যা নিয়ে পানিহাটিবাসীর ক্ষোভ-বিক্ষোভেরও শেষ নেই! পুরসভা কিছু সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা সরাসরি বলে দিচ্ছে, টাকা নেই। এমনকি, বহুদিন বিল বকেয়া থাকায় পুরসভার টেলিফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে আটকে রয়েছে বহু কাজ। কিন্তু তাতে কী! পুরসভার ভাঁড়ার থেকে কাউন্সিলারদের এবার আট হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ, নতুন বছরের সূচনায় এই টাকায় তাঁরা উপহার কিনবেন! বছরভর পুজো, মেলা, খেলা ও নানা উৎসবে কোটি কোটি টাকা খরচ করা কাউন্সিলারদের কেন সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্নে জোর সমলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।

Advertisement

পানিহাটি পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ড। সিপিএম ও কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলার ছাড়া বাকি ৩৩ জনই তৃণমূলের। উপহার বাবদ খরচ হচ্ছে মোট ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। পুরসভা সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত নতুন বছরে কাউন্সিলারদের ডায়েরি, পেন, ছোটো ব্যাগ ও মিষ্টির প্যাকেট দেওয়া হতো। প্রয়াত স্বপন ঘোষ চেয়ারম্যান থাকাকালীন কাউন্সিলারদের নগদ দেওয়া শুরু হয়। গত বছর মলয় রায় চেয়ারম্যান থাকার সময় কাউন্সিলারদের সাত হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে আট হাজার টাকা করা হয়েছে। পুরসভার দুই বিরোধী কাউন্সিলারও এই টাকা নেন। তবে সিআইসি তথা বিধায়ক-পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ ও কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী এই টাকা চেয়ারম্যানের ত্রাণ তহবিলে দিয়ে দেন বলে খবর।

উপহার কেনার জন্য হাজার হাজার টাকা দেওয়ার খবর চাউর হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা জেলাস্তরের বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কাউন্সিলারদের এক রাতের মেহফিলের খরচই তো বিশ হাজার টাকা! পুরসভা যেখানে টেলিফোন বিল দিতে পারছে না, সেখানে কাউন্সিলারদের টাকা বিলি করা হচ্ছে! এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে!’ পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘এই রীতি বহু বছর ধরে চলে আসছে। আমি শুরু করিনি। বিরোধীরা পানিহাটির বর্তমান উন্নয়নে ভয় পেয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ