সংবাদদাতা, চাঁচল: অন্য রাজ্যে গিয়েও হাতে পাওয়া যায়নি। বারবার খালি হাতে ফিরে আসতে হয় পুলিসকে। তবুও চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিল পুলিস। অবশেষে চাঁচলে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার ১৪ মাসের মাথায় পূর্বাঞ্চলের কুখ্যাত ডাকাত লালু সাহানিকে হেফাজতে পেল চাঁচল থানা। আরেক ডাকাত মোহাম্মদ ভোলাকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিস।
২০২৩ সালে চাঁচলে হয়ে যাওয়া দুটি ভয়াবহ ডাকাতির মাস্টার মাইন্ড লালু সাহানি। প্রায় আটমাস আগে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে সে গ্রেপ্তার হয়। তখন থেকে আশার আলো দেখতে পায় মালদহ জেলা পুলিস। হেফাজতে নেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করা হয়। কিন্তু বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্মে লালু জড়িত থাকায় তাকে হেফাজতে পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে বিহারের কাটিহার থেকে লালুকে নিজেদের হেফাজতে পাওয়ার সুযোগ পায় চাঁচল থানা। মঙ্গলবার চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হলে লালুকে পাঁচদিনের দিনের পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্যদিকে,আরেক কুখ্যাত দুষ্কৃতী মহম্মদ ভোলা কাটিহারের বাসিন্দা। সে মালতীপুরে সোনার দোকানে ডাকাতি ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে খুনের ঘটনায় জড়িত। তাকেও এদিন পাঁচদিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিস।
তদন্তকারীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, লালু বিহারের কাটিহার জেলার বাসিন্দা হলেও ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে বিয়ে করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে নদী পার করে জঙ্গলে ডেরা তৈরি করে সে তার সঙ্গীদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকত। বারবার গিয়েও পুলিসকে খালি হাতে ঘুরে আসতে হয়। পুলিস সূত্রে জানা যায়, বিহার,বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট ও ডাকাতির ঘটনায় মূল এই পান্ডা লালু।
২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভরসন্ধ্যায় চাঁচলের একটি নামী সোনার দোকানে ডাকাতি হয়। সেখানে লালু সাহানির নেতৃত্বে পাঁচজনের ডাকাত দল পাঁচ মিনিটের অপারেশনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার গয়না লুট করে পালিয়েছিল। পালানোর সময় কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে তারা। তদন্তে নেমে পুলিস চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও সর্দার লালুর নাগাল পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ২৬ জুনের সন্ধ্যায় মালতীপুর সদরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি হয়। ডাকাত দলকে আটকাতে গিয়ে কাশিমপুরে বোমার আঘাতে নিহত হন সিভিক ভলান্টিয়ার মোমিনুল হক। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার ভোলার নাগাল পেল চাঁচল থানার পুলিস। থানার এক আধিকারিক বলেন, লুট করা সামগ্রী কোথায় রাখা হয়েছে, বিস্তারিত জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।