


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আবার ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা। এবার ফাঁদে পড়ে ৪১ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন নিউটাউনের এক প্রবীণ। প্রতারকরা সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করেন। প্রতারিত নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ফিক্সড ডিপোজিট থেকে ভাঙিয়ে প্রতারকদের দিয়ে দেন। পরে বুঝতে পারেন যে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমে নিউটাউন থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম অর্ঘ্য দাস। কলকাতার নারকেলডাঙা থানা এলাকার বাসিন্দা। এই চক্রে যুক্ত বাকিদের খোঁজ চলছে। চলছে প্রতারণার টাকা উদ্ধারের চেষ্টা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত প্রবীণের বয়স ৬২ বছর। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-১ এলাকার একটি আবাসনে থাকেন। ৫ মার্চ তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, নরেশ দোয়েল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁর নাম করে তোলা একটি এটিএম কার্ড পাওয়া গিয়েছে। ওই কার্ডটি তোলা হয়েছে মুম্বইয়ের একটি ব্যাংক থেকে। সেই ব্যাংকে প্রবীণের নামে একটি অ্যাকাউন্ট চলছে। প্রতারিত জানান, মুম্বইয়ে তাঁর কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। এরপর সন্দীপ রায় পরিচয় দিয়ে ভুয়ো সিবিআই অফিসার তাঁকে ফোন করে। পরে আরও এক ভুয়ো সিবিআই অফিসার ফোন করে প্রবীণ ব্যক্তিকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে।
বিভিন্ন ধরনের কথা বলে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ভয় পেয়ে অভিযোগকারী নিজের ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা ভাঙিয়ে ৪০ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা আরটিজিএস করে টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ১০ মার্চ তিনি নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। ডিজিটাল লেনদেনের বেশ কিছু নথিপত্র তাঁর কাছ থেকে মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে ভারতীয় আইনে কোনও অ্যারেস্ট নেই। তাই এই ধরনের ফোন পেলে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় থানার সাহায্য নিতে হবে। কিন্তু কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কোনোভাবেই করা উচিত নয়।