সংবাদদাতা, ঘাটাল: সেচদপ্তরের জায়গার উপর পার্টি অফিস তৈরি করছে সিপিএম। এলাকার বাসিন্দাদের আপত্তি সত্ত্বেও দাসপুর-২ ব্লকের রানিচক বাজারের ওই বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ করছে না বলে অভিযোগ। সিপিএমের মতো পোড় খাওয়া রাজনৈতিক দল ওইভাবে সরকারি জায়গা জবর দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করতে শুরু করায় বিষয়টি রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল বলেন, ‘সেচ দপ্তরের জায়গার উপর বাড়ি তৈরির ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেয়ে নোটিস জারি করেছি। বিষয়টি পুলিসকেও জানানো হয়েছে।’ পশ্চিম মেদিনীপুর পূর্ব প্রান্তের রূপনারায়ণ নদের উপরে রানিচক গঞ্জ । সেই বাঁধের উপরেই কয়েক দিন ধরে সিপিএমের পক্ষ থেকে তাদের আঞ্চলিক কার্যালয়টি তৈরি করার কাজ জোর কদমে চলছে। অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা বাঁধ দখল করে ওই নির্মাণ করার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সিপিএম নেতারা সেই আপত্তিকে কোনও রকম আমল দেননি। তৃণমূলের দাসপুর-২ ব্লক সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বলেন, ‘কার্যত জোর করেই বাঁধের বেশ কিছুটা দখল করে সিপিএম নির্দ্বিধায় ওই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাঁধের ক্ষতি হবে। নিষেধও করা হয়েছে। কিন্তু সিপিএম কারও কথা শুনছে না। তার উপর পাকা বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি অনুমোদিত প্ল্যানও।’ সেচদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, বাঁধের উপর নির্মাণ করলে বন্যার সময় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ করতে সমস্যা হয়। বাড়ির ভিতের নিচে বেশির ভাগ সময় অবাঞ্ছিত গর্ত তৈরি হয়। সেই গর্তই পরে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অন্যদিকে, বর্ষার সময় ওই এলাকায় বাঁধের উপর বহু বাড়ি ভেঙেও গিয়েছে। রানিচকের সিপিএম নেতা অন্নদাশঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে রূপনারায়ণ নদের উপর আমাদের একটি দলীয় কার্যালয় রয়েছে। এবারের বর্ষার সময় সেই বাড়িটির অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। তাই আমরা সেই জায়গাতেই ইট-সিমেন্ট-বালি দিয়ে ছোট একটা নির্মাণ করছি। নতুন করে কোনও জায়গা দখল করিনি।’ তিনি জানান, ওই নদী বাঁধের উপর সারিবদ্ধ ভাবে আরও অনেক দু’-তিন তলা বসতবাটি রয়েছে। সেচ দপ্তরের জায়গা দখল করে বহু মানুষ দোকান করে রয়েছেন। সিপিএমের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কোনও আপত্তি বা বিরোধিতা নেই। কিন্তু তৃণমূল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাদের দলীয় কার্যালয় তৈরির কাজটি বন্ধ করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। দাসপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ দর্পণ মাইতি বলেন, ‘আসলে স্লুইস গেটের পাশেই সিপিএম নির্মাণটি করছে। এর ফলে নদীর জলের চাপ বাড়লে যে কোনও সময় বাঁধের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’



