নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রেফার সংখ্যা কমিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের বাহবা কুড়ল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। মাসে পাঁচ থেকে ছ’জন রোগী রেফার করা হয়। বেশিরভাগই নিউরো সংক্রান্ত রোগীদের রেফার করা হয়। অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কয়েক মাসের মধ্যেই নিউরো সার্জারি চালু হবে। তা হয়ে গেলে রেফারের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, আগের চেয়ে রেফারের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। বিগত কয়েক মাসে গড়ে পাঁচ থেকে ছ’জন রোগী রেফার করা করা হয়েছে।
Advertisement
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নারায়ণস্বরূপ নিগম জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফারের বিষয়টিও উঠে আসে। রেফারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তারিফ করেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৬জন রোগী রেফার হয়েছেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যাও কমে গিয়েছে। গত বছর ৮০জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। এবার ৩৮ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার পর নার্সিংহোম থেকে হাসপাতালে এসেছিলেন। এক আধিকারিক বলেন, আগামী দিনে দক্ষিণবঙ্গের রোগীদের কলকাতায় রেফার না করে যাতে বধর্মান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা করা যায়, তা দেখতে হবে। বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলি থেকে এখন এসএসকেএমে বেশি রোগী রেফার হয়। চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করে সেই ‘ডেস্টিনেশন’ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল করতে হবে। যদিও এক আধিকারিকের দাবি, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার রোগীরা বর্ধমানের উপর ভরসা করেন। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম জেলার হাসপাতালগুলি থেকে রোগীদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি।
স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বলেন, হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিটটিও দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া নিউরো সার্জারিও চালু হতে চলেছে। সামনের অর্থবর্ষে বেশকিছু অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ কেনা হবে। সেগুলি পাওয়া গেলেই দু’টি বিভাগে চিকিৎসা পুরোদমে চালু হবে। হাসপাতালে এখনও ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা হয়। ওই ইউনিটটি চালু হয়ে গেলে সেখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা করা যাবে। একইভাবে নিউরো সার্জারি বিভাগে ছোট অপারেশন করা হয়। ইউনিটটি পুরোদমে চালু হয়ে গেলে সর ধরনের জটিল অপারেশনও করা হবে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেশ কয়কজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। স্বাস্থ্যদপ্তর তাতে সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া বেশকিছু টেকনিক্যাল কর্মীও দেওয়া হবে। পরিকাঠামো উন্নত হলে আগামী দিনে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণবঙ্গের ‘পিজি’ হয়ে উঠবে।



