নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আরপিএফের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে রেল অবরোধ করলেন হকাররা। বুধবার দুপুরে হুগলির মানকুণ্ডু স্টেশনে রেললাইন আটকে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ চলায় হাওড়া-হুগলি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে অবরোধ উঠলেও মেন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। কয়েকটি লোকাল বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেন দেরিতে চলেছে। যদিও এ নিয়ে রেলকর্তারা কোনও বিবৃতি দেননি। বিক্ষোভকারী হকারদের অভিযোগ, এদিন হাওড়া-বর্ধমান শাখায় একাধিক জায়গায় অভিযানের নামে হকারদের নিগ্রহ ও হেনস্তা করা হয়েছে। আরপিএফ জওয়ান ও অফিসাররা হকারদের মারধর করেছেন, তাঁদের সামগ্রী ফেলে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই অবরোধ করেন তাঁরা।
আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই রেলের কামরা হকারমুক্ত করার অভিযান চলছে। এদিন তেমনই অভিযান চালানো হয়েছে। আইন মেনে এদিন ১৫ জন হকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ন’জনকে ব্যান্ডেল জিআরপি এবং ছ’জনকে বালি জিআরপি’তে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও হকারের উপর অত্যাচার করা হয়নি। এই গ্রেপ্তারের পরেই মানকুণ্ডুতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। যদিও হকারদের আন্দোলনের জেরেই এদিন বিকেলে ব্যান্ডেল জিআরপি ন’জন হকারকে মুক্তি দিয়েছে।
মানকুণ্ডু স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে এদিন অবরোধ হয়নি। হকাররা নিজেরাই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে লাইনে নেমে অবরোধ করেছেন। রেলকর্তাদের দাবি, হাওড়া-হুগলি রেল পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। আইএনটিটিইউসির হুগলি জেলার সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, এদিন হকারদের অবরোধে আমাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। আমরা হকারদের অভিযোগের সঙ্গে সহমত। রেল কর্তৃপক্ষ হকারদের উপর অযথা নির্যাতন করছে। তাঁদের উচ্ছেদের নামে অমানবিক পন্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একজন হকার অভিযান চলাকালীন ট্রেন থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলেন। আমরা এভাবে অভিযানের নিন্দা করছি।-নিজস্ব চিত্র