Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রিন্সেপ ঘাটে নৌকায় তুলে ধর্ষণ? বেহালা থেকে গ্রেপ্তার ফেসবুক বন্ধু

ফেসবুকে পরিচয় তাঁদের। সেই সূত্রেই আদানপ্রদান হয় মোবাইল নম্বর

প্রিন্সেপ ঘাটে নৌকায় তুলে ধর্ষণ? বেহালা  থেকে গ্রেপ্তার ফেসবুক বন্ধু
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেসবুকে পরিচয় তাঁদের। সেই সূত্রেই আদানপ্রদান হয় মোবাইল নম্বর। মাস তিনেক নিয়মিত কথাবার্তা চলার পর দেখা করার জন্য মেয়েটিকে প্রিন্সেপ ঘাটে ডেকেছিল যুবক। অভিযোগ, এরপর ঘাটে থাকা নৌকায় তুলে তরুণীকে ধর্ষণ করে সেই যুবক। ঘটনার পর  ট্রমায় চলে যান তরুণী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবক দীপ ভট্টাচার্যকে শনিবার রাতে বেহালা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নেতাজিনগর থানা। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, জোর করে টাকা আদায়, প্রতারণা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজিনগর এলাকার বাসিন্দা নির্যাতিতা তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয় গত জানুয়ারি মাসে। অভিযুক্ত দীপ নিজেকে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলে জানায়। প্রথমে তাদের মেসেঞ্জারে কথাবার্তা হতো। আলাপ জমে ওঠার পর ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। তরুণী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন কথা চলত। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর তাঁকে ১২ মার্চ প্রিন্সেপ ঘাট এলাকায় তাঁকে আসতে বলে দীপ। তিনি সেখানে হাজির হন। অভিযুক্ত তাঁকে বলে, দু’জনে নৌকায় চেপে গঙ্গাভ্রমণ করবে। সেইমতো দু’জনে একটি নৌকায় ওঠে। নির্যাতিতার আইনজীবী কৃশানু গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নৌকায় ওঠার পর তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর অভিযুক্ত এই কথা বাড়িতে না জানানোর জন্য ভয় দেখায়। তাঁর ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই নির্যাতিতা। বাড়িতে প্রথমে কিছু বলেননি।  জুলাই মাসে তিনি শারীরিকভাবে অস্বস্তি বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে চান। তিনি সবটা জানান। এরপর ১৪ জুলাই তিনি নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। দীপ নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বাড়িতে কিছু না জানিয়ে তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে পাওয়া টাকা বিভিন্ন সময়ে ‘ট্রান্সফার’ করেছেন অভিযুক্তকে। সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকা। 
তদন্তে নেমে পুলিস নির্যাতিতার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখে বিভিন্ন সময় অভিযুক্তের টাকা চাওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পায়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই যুবক আর্মিতে কর্মরত নয়। সে এনসিসি করে। মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিল তরুণীকে। অভিযোগ হওয়ার পর থেকে সে বারবার ফোন নম্বর বদল করছিল এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তার নতুন নম্বর জোগাড় করে  পুলিস বেহালায় হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ