নয়াদিল্লি: বিশ্বজয়ীদের ভালোবাসায় ভরিয়ে দিল রাজধানী। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মুম্বই থেকে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন হরমনপ্রীত কাউর ব্রিগেড। বিমানবন্দর থেকে টিমবাসে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় তাজ প্যালেস হোটেলে। সেখানে পৌঁছতেই ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফদের উপর ছোড়া হয় গোলাপের পাপড়ি। হোটেলের মধ্যে বাজছিল ঢাক-ঢোল। তার সুরে নাচতে থাকেন জেমাইমা রডরিগেজ, রাধা যাদব, স্নেহ রানা। হয় কেক কাটাও। বুধবার সন্ধেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংবর্ধনা দেবেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারদের। তবে সেই অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন না ফাইনালের সেরা শেফালি ভার্মা। নাগাল্যান্ডে ইন্টার-জোনাল টি-২০ প্রতিযোগিতায় উত্তরাঞ্চলকে নেতৃত্ব দিতে তিনি চলে এসেছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার ঘোষিত হল আইসিসি’র মহিলা বিশ্বকাপের ‘টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট’। তাতে রিচার জায়গা না হওয়া নিয়ে চর্চা চলছে। পরিবর্তে কিপার হিসেবে রয়েছেন পাকিস্তানের সিদরা নওয়াজ। অথচ, পাকিস্তান শেষ চারেও ছিল না। এদিকে রিচার বিগ-হিটিং রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ক্রিকেটমহলে। সদ্যসমাপ্ত আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা তিনিই মেরেছেন। ফাইনালেও কঠিন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। আইসিসি’র ঘোষিত একাদশে রয়েছেন ভারতের স্মৃতি মান্ধানা, জেমাইমা রডরিগেজ ও দীপ্তি শর্মা। বাকিরা হলেন—লরা উলভার্ট (ক্যাপ্টেন), মারিজানে কাপ ও নাদিনে ডি ক্লার্ক (তিনজনই দক্ষিণ আফ্রিকার), অ্যাশ গার্ডনার, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও অ্যালানা কিং (তিনজনই অস্ট্রেলিয়ার), সোফি এক্লেস্টোন (ইংল্যান্ড), সিদরা নওয়াজ (পাকিস্তান)। দ্বাদশ ব্যক্তি ইংল্যান্ডের ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট।
এদিকে, বিসিসিআই টিভিতে হরমনপ্রীত শুনিয়েছেন সফল হওয়ার নেপথ্য কাহিনি, ‘স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিও না। কে বলতে পারে কখন নিয়তি স্বপ্নপূরণের দরজায় পৌঁছে দেবে!’ ছোটবেলার কথা উঠেছে তাঁর মুখে, ‘বাচ্চা থাকার সময়েও হাতে ব্যাট থাকত সবসময়। প্রথমে বাবার কিটব্যাগ থেকে ব্যাট বের করে খেলতাম। কিন্তু সেটা বড্ড বড় ছিল। একদিন বাবা সেই ব্যাটটা আমার মাপমতো করে দিলেন। তা দিয়েই খেলে বেড়াতাম। টিভিতে ভারতের খেলা চললে ভাবতাম, এমন একটা সুযোগ আমিও যেন পাই। তখন মহিলা ক্রিকেট নিয়ে কিছু জানতামই না।’
প্রথমবার টিম ইন্ডিয়ার হয়ে খেলার কথা মনে পড়েছে হরমনপ্রীতের। তিনি বলেছেন, ‘দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। ভাবতাম, কখন যে নীল রঙের জার্সি পরব? নিজের মধ্যে জন্ম নিত জেদ যে একদিন দেশের হয়ে কিছু একটা করতে হবে। একটা পরিবর্তন আনতে হবে। সেই স্বপ্নগুলোই এখন সত্যি। তাই কখনও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে নেই।’