নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এবার জঙ্গলমহল ঘুরতে এসে রোপওয়েতে চড়ার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। মুকুটমণিপুর জলাধারের উপর রোপওয়ে নির্মাণের ব্যাপারে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। দ্রুত পর্যটন দপ্তরের লোকজন ওই প্রকল্পে সমীক্ষা চালানোর জন্য জেলায় আসবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার খাতড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মুকুটমণিপুর উন্নয়ন সংস্থার একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু যোগ দেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো চিড়িয়াখানা তৈরির ব্যাপারেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, মুকুটমণিপুর জলাধারের উপর রোপওয়ে তৈরি করা হবে। ওই ড্যামের পাশে ৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠবে ইকো ট্যুরিজম পার্ক। এছাড়াও মুকুটমণিপুরকে কেন্দ্র করে একাধিক ছোটো বড়ো প্রকল্প আমরা হাতে নিতে চলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো চিড়িয়াখানা তৈরির ব্যাপারেও আমরা আলোচনা করেছি।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুটমণিপুর জলাধারের পাড়ে রয়েছে পরেশনাথ পাহাড়। সেখানে একটি মন্দির রয়েছে। পর্যটকরা ওই মন্দির দর্শন করতে যান। জলাধারের পশ্চিম দিকে বন পুখুরিয়া মৌজায় রয়েছে ডিয়ার পার্ক। বর্তমানে নৌকায় চেপে গোটা জলাধার পার হয়ে পর্যটকরা ডিয়ার পার্কে যান। পরেশনাথ পাহাড় থেকে জলাধারের উপর দিয়ে ডিয়ার পার্ক পর্যন্ত রোপওয়ে তৈরির ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। মোট দেড় কিলোমিটার পথ রোপওয়েতে পাড়ি দেওয়া দেওয়া যাবে। সমতল থেকে অনেকটা উপর দিয়ে রোপওয়েতে যাওয়ার সময় সমগ্র জলাধারের পাশপাশি মুকুটমণিপুরের অরণ্য এবং প্রাকৃতিক শোভা পর্যটকরা চাক্ষুষ করতে পারবেন। ডিয়ার পার্ক থেকে পর্যটকরা নৌকায় চেপে মুকুটমণিপুরের পূর্ব দিকে ফিরতে পারবেন। সেক্ষেত্রে জলপথে ভ্রমণের স্বাদও তাঁরা পাবেন।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মুকুটমণিপুরকে ঢেলে সাজাতে ১৫-২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। ইকো পার্ক ও চিড়িয়াখানার কাজ শেষ হলে একদা পিকনিক স্পট মুকুটমণিপুর পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। তারফলে সারাবছরই সেখানে ভিন জেলার লোকজনের আনাগোনা লেগে থাকে। পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এলাকার অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। ইতিমধ্যেই মুকুটমণিপুর ও লাগোয়া খাতড়া, রানিবাঁধ ব্লক এলাকায় নতুন নতুন হোটেল, রিসর্ট তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে ওই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে বহু বেকারের কর্মসংস্থান হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। এব্যাপারে পর্যটন দপ্তরের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি দপ্তরেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। এনিয়ে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা দেখবেন বলে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু আশ্বাস দিয়েছেন। মুকুটমণিপুর জলাধার।