Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুনগ্রামে শিশুদের উপর ভেঙে পড়ল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খড়ের চাল

বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল চলাকালীন কচিকাঁচাদের উপর হুমমুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মুর্শিদাবাদ থানার নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের টালির চাল। ঘটনায় জখম হয়েছে আটজন শিশু।

নতুনগ্রামে শিশুদের উপর ভেঙে পড়ল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খড়ের চাল
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল চলাকালীন কচিকাঁচাদের উপর হুমমুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মুর্শিদাবাদ থানার নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের টালির চাল। ঘটনায় জখম হয়েছে আটজন শিশু। স্থানীয়রা ছুটে এসে জখম শিশুদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে এক শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকলেও সংস্কার করা হয়নি। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি এবং মুর্শিদাবাদ থানার আইসি। লালবাগ মহকুমা শাসক ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিশুদের অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। বর্তমানে জখম শিশুরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম শিশুদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি রায় বলেন, সেন্টারটি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বাড়িতেই অস্থায়ীভাবে চলছিল। এদিন স্কুল চলাকালীন টালির চাল ভেঙে পড়লে আটজন শিশু জখম হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার সময় স্কুলে উপস্থিত বাকি শিশুদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোনওপ্রকার সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ অভিভাবকদের দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনার বিষয়ে সিডিপিও এবং সুপারভাইজারকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সেন্টারটির জন্য বিকল্প জায়গা দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

মুর্শিদাবাদ থানার নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠানপাড়ায় রয়েছে ৭৬ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বাড়িতেই টালির চালের সেন্টারটি রয়েছে। মোট শিশুর সংখ্যা ২৫ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। রীতিমতো ঝুঁকি নিয়েই সেন্টারটি চলছিল। এদিকে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে টালির চালের নীচের বাঁশ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। যার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। কপালে জোরে বাচ্চারা প্রাণে বেঁচেছে। আরও বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। জখম এক শিশুর মা বেলি বিবি বলেন, টালির চালটা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকে ছিল। বেশিরভাগ বাঁশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। 
অভিভাবকরা সেন্টার সংস্কারের জন্য একাধিকবার বললেও দিদিমণি কর্ণপাত করেননি। তিনি যদি একটু সচেতন হতেন তাহলে আজকের এই ঘটনা হতনা। অপর এক শিশুর অভিভাবক মর্জিনা খাতুন বলেন, সেন্টারের দিদিমণির জন্য এতগুলো বাচ্চা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ওঁর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা নিয়াজউদ্দিন শেখ বলেন, নোংরা ওঅস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেশ কয়েকবছর ধরে সেন্টারটি চলছে। প্রশাসন বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর সেন্টারটি অন্যত্র স্থানান্তর করুক। অপর বাসিন্দা সাইন শেখ বলেন, বাড়িতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি টালির চালের নীচে বাচ্চারা চাপা পড়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে আরও কয়েকজন ছুটে আসে। সবাই মিলে টালির চাল সরিয়ে বাচ্চাদের বের করে আনা হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ