নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন কলেজছাত্রী। তাঁর পথ আটকে জোর করে কথা বলার চেষ্টা করে এক যুবক। শুধু তাই নয়, সে তরুণীকে রীতিমতো জোরাজুরি করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার জন্য। ছাত্রীর দুই দাদা এসে প্রতিবাদ করলে তাঁদেরই বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে নিমতার আলিপুর বাজার এলাকায় এই ‘রোমিও’ দৌরাত্ম্যের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত ‘রোমিও’ ও তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম যথাক্রমে অভিজিৎ মল্লিক ওরফে শুভ ও শুভেন্দু দাস। তাদের বাড়ি নিমতা থানা এলাকায়।
নিগৃহীতা কলেজছাত্রীর বাড়ি নিমতার ইস্ট আলিপুর এলাকায়। তিনি বেলঘরিয়ার ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, ওই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁর পিছু নেয়। তাঁর সঙ্গে জোর করে কথা বলার চেষ্টা করে এবং মোবাইল নম্বর চায়। রাস্তা দিয়ে আসতে আসতে পরিস্থিতি দেখে তরুণী দাদাকে ফোন করে কোনোরকমে সমস্যার কথা জানান। কথা বলতে বলতে তিনি আলিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছান। সেখানে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বেপরোয়া যুবকও সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য রীতিমতো জোরাজুরি করে সে। সেই সময় ছাত্রীর দুই দাদা বাইকে সেখানে পৌঁছায়। কেন বোনকে হয়রানি করছে সে, জানতে চান দুই দাদা। এসবের মধ্যে আচমকাই অভিযুক্তের কয়েকজন বন্ধু সেখানে হাজির হয়। ছাত্রীর দুই দাদাকে বেধড়ক মারধর করে তারা। একজন রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। অন্যজনের মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাঁতও ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জখম দুই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় নিমতা এলাকায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওই ছাত্রী বলেন, ‘অভিযুক্তকে আমি চিনি না। টিউশন পড়ে বাড়ি ফেরার সময় বুঝতে পারি সে পিছু নিয়েছে। আমি চরম আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থাতেই আলিপুর বাজারে পৌঁছাই। দাদাকে ফোন করে বিপদের কথা জানিয়েছিলাম। বাজারেও ছেলেটি জোর করছিল ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য। দাদারা এসে প্রতিবাদ করলে ওদের দলবল ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি ছাড়াতে গেলে আমাকেও ঠেলে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা অনেকে ভিডিও করলেও অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করেনি।’