নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভুয়ো ভোটার কাণ্ডে এবার কমিশনের নজরে এবার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর প্রদানকারী সংস্থাগুলি। জেলা জেলায় ভুয়ো ভোটারের হদিশ মেলার পর তদন্ত শুরু করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছে, ভুয়ো নথি দিয়ে অনলাইনে ভুয়ো ভোটারদের নাম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমেই এই কাজ করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে কমিশন। তাদের আশঙ্কা, ভুয়ো নথি তৈরি চক্রের সঙ্গে এই অপারেটরদের সরাসরি যোগসাজশ থাকতে পারে। সবটাই এক সূত্রে বাধা হতে পারে। যেকারণে এবার ডেটা এন্ট্রি আপারেটরদের নিয়ে বেশ কয়েকটি জেলার কাছে পূর্ণাঙ্গ নথি তলব করেছে কমিশন।
অস্তিত্বহীন ভোটার ইস্যুতে ইতিমধ্যেই কমিশনের কমিশনের কোপে পড়েছেন রাজ্যের দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)। নজরে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন আধিকারিক। ভুয়ো ভোটারের নাম নথিভুক্তিকরণ নিয়ে অভিযুক্ত দুই ইআরও’র যুক্তি ছিল, ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা তাঁদের লগইন আইডি ব্যবহার করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ইআরও’দের মাথায় শাস্তির খাঁড়া নেমে এলেও এবার ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের নিয়োগকারী এজেন্সিগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। যেসব জেলার ভুয়ো ভোটারের তথ্য সামনে এসেছে, সেসব জেলার জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে গত পাঁচবছরে সংশ্লিষ্ট জেলায় কোন কোন এজেন্সি কাজ করেছে, তার তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর।
ভোটার তালিকার মূল সার্ভারে নাম নথিভুক্ত করতে হলে ইআরও’দের আইডি প্রয়োজন। সরাসরি ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা যদি ওই সার্ভারে নাম নথিভুক্ত করেন সেক্ষেত্রে ইআরও’র আইডি ছাড়া তা সম্ভব নয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ইআরও এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা তাদের নিয়োগকারী এজেন্সির সঙ্গে একটা যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহ কমিশনের। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে গত পাঁচবছরের এজেন্সিদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে কমিশন। তারপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
কয়েকমাস আগেই শহর কলকাতায় পাসপোর্ট জালিয়াত চক্রের হদিশ মিলেছিল। তদন্ত চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিসের গুন্ডাদমন শাখা। এখনও তদন্ত চলছে। সবটাই তাই একই সূত্রে বাধা কি না তা খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। অর্থাৎ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর প্রদানকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন।