সিডনি: যাওয়ার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাওয়া একেই বলে! ডনের দেশে সম্ভবত কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। আর সেই বিদায়ী মঞ্চে দুই মহারথী মাতিয়ে দিলেন সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের গ্যালারি। ৬৯ বল বাকি থাকতে হাসতে হাসতে ৯ উইকেটে জেতালেন ভারতকে। ঠিক যেন খেলার ছলে ষষ্ঠীচরণের হাতি লোফার মতোই অনায়াসে!
একদিনের সিরিজ আগেই দখল করেছিল অস্ট্রেলিয়া। শনিবার নিয়মরক্ষার তৃতীয় ম্যাচে রোহিত (অপরাজিত ১২১) আর বিরাটের (অপরাজিত ৭৪) ব্যাটে সিরিজ ১-২ হল। নিষ্কৃতি মিলল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে ১৭০ বলে রো-কো জুটির সংগ্রহ ১৬৮। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, দুই মহারথীর ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়ে উঠতে থাকা প্রশ্ন আপাতত স্টেডিয়ামের বাইরে আছড়ে পড়ল। ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের দলে বিরাট-রোহিত থাকবেন কিনা, সেই চর্চাও আপাতত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ল।
ঠিক এটাই তো দেখতে চেয়েছিলেন সিডনিতে হাজির ক্রিকেটপ্রেমীরা। রোহিতের ব্যাটে এল ওডিআই কেরিয়ারের ৩৩তম শতরান। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ফরম্যাটে যা নবম, শচীন তেন্ডুলকরের সমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫০। তবে এদিনের সেঞ্চুরির স্বাদই আলাদা। হিটম্যানের ১২৫ বলের ইনিংসে থাকল ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কা। শুধু এই ম্যাচেরই নয়, সিরিজেরও সেরা নির্বাচিত হলেন মুম্বইকর। এর থেকে ভালো জবাব সত্যিই হয় না!
কোহলি আবার পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে মোট রানে টপকে গেলেন কুমার সাঙ্গাকারাকে (১৪,২৩৪)। এখন শচীনের (১৮,৪২৬) পরেই তিনি (১৪,২৫৫)। ক্যাপ্টেন শুভমান গিল (২৪) ফেরার পর ক্রিজে যাওয়া ভিকে ৮১ বলে মারলেন সাতটি বাউন্ডারি। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই শূন্য করার পর এই ইনিংস হয়ে উঠল এক ঝলক তাজা বাতাস। প্রথম রানটি নেওয়ার পর ভিকে’র ফিস্টবাম্প সেলিব্রেশনেই তা প্রতিফলিত। জয়সূচক স্ট্রোকও এল বিরাটের ব্যাটে। দলকে জিতিয়ে ফেরার পথে দুই মহাতারকার শরীরী ভাষাতেই স্বস্তির বার্তা স্পষ্ট। যেন বোঝাতে চাইলেন অজিত আগরকরের মতো মাঝারিমানের কেউ চ্যাম্পিয়নদের ভবিষ্যৎ নির্ধারক হতে পারেন না! যতই তিনি প্রধান নির্বাচক হোন কিংবা কোচ গৌতম গম্ভীরের নেপথ্য মদত পান না কেন!
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অজিরা ঝোড়ো শুরুই করেছিল। কিন্তু হর্ষিত রানার (৪-৩৯) কেরিয়ারের সেরা বোলিংয়ের সুবাদে ২৩৬ রানেই থামতে হয় তাদের। তিন স্পিনারও মাঝের ওভারে আটকান রানের গতি। এরপর শুধুই রোহিত-বিরাট শো!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ২৩৬ (রেনশ ৫৬, হর্ষিত ৪-৩৯)। ভারত ৩৮.৩ ওভারে ২৩৭-১ (রোহিত অপরাজিত ১২১, বিরাট অপরাজিত ৭৪)। ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার ২-১ ম্যাচ ও সিরিজের সেরা- রোহিত শর্মা।