নয়াদিল্লি: ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়। ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়। আর সদ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে তোলা। সাদা বলে আইসিসি’র গত তিন ইভেন্টের মধ্যে দু’টিতে খেতাব জিতেছে ভারত। অন্যটিতে রানার্স। অধিনায়ক হিসেবে এই স্মরণীয় অধ্যায় প্রসঙ্গে রোহিত শর্মা বলেছেন, ‘শেষ তিনটি বড় প্রতিযোগিতায় আমাদের দল দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। তার মধ্যে আমরা হেরেছি শুধু একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে। তবে তিনটি আসরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বিশাল ব্যাপার হতো। অবশ্য তা নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। বরং অধিনায়ক হিসেবে আমি গর্বিত। এই তিন প্রতিযোগিতায় ২৪টির মধ্যে ২৩টি ম্যাচ জেতা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। তার জন্য আমাদের অনেক লড়াই করে এগতে হয়েছে। কঠিন সময় পেরিয়েই উৎসবের মঞ্চে পৌঁছেছি। এই তিন আসরে যারা ভারতীয় দলে ছিল, তাদের সবার সম্মান প্রাপ্য।’
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে পোস্ট হওয়া ভিডিওতে হিটম্যান আরও বলেন, ‘একজন ক্রীড়াবিদের জীবনে খারাপ সময় আসবেই। কিন্তু হাল ছাড়লে চলবে না। লড়াইয়ের মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতে হবে। আমরা যেমন ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে খারাপ খেলেছি। তিনটি টেস্টেই হেরেছি। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজেও প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ দল। অথচ তারপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আমরা সাফল্য পেয়েছি। টি-২০ বিশ্বকাপ জয় থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা পর্যন্ত ৯ মাসে আমরা উপলব্ধি করেছি এক অমোঘ সত্য। বুঝেছি, জীবনে ওঠা-পড়া থাকবেই।’
২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ভারত। ওই পরাজয়ের পর টিম ইন্ডিয়ার মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন রোহিত। তাঁর কথায়, ‘ওই আসরের পর আমরা খেলোয়াড়দের সাফ জানিয়ে দিই কার কাছে কী চাওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার করে দেওয়া হয় দলের পরিকল্পনা। প্রতিটি ব্যাপারে স্বচ্ছতা আনা হয়। ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনেকবার কথাবার্তাও বলি। ভয়ডরহীনভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া দরকার ছিল। এরমধ্যে অবশ্য কিছু খারাপ সময় এসেছে। কিন্তু আমরা কখনও আতঙ্কিত হয়ে পড়িনি। চিন্তাভাবনা পাল্টানোর কথাও মনে আসেনি। আসলে একটা স্কোয়াড গড়ে তুলতে হলে সুদূর পরিকল্পনা থাকা জরুরি। পাশাপাশি আবার পর্যালোচনা করতে হয় আগের সিরিজগুলোতে কেনই বা ব্যর্থ হতে হয়েছে।’
নিজের কেরিয়ার নিয়ে হিটম্যান বলেছেন, ‘১৭-১৮ বছর ধরে আমি সবসময় ভালো ও মন্দের মধ্যে দিয়ে চলেছি। এর থেকে প্রচুর শিক্ষা পেয়েছি। গত ন’মাসও তার ব্যতিক্রম নয়। আগে আমি মিডল অর্ডারে ব্যাট করতাম। তারপর এলাম ওপেনে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়েও ভূমিকা বদলেছে। তবে মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি।’