আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
উত্তর আমেরিকার ইলিনয় শহরের বেশ উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র রক রিভার। নামটা শুনেই একটু খটকা লেগেছিল। হঠাৎ একটা নদীর এমন নামকরণ কেন? এই নামের পেছনে কারণখানা জেনে বেশ অবাকই হতে হয়। গল্পটা তাহলে গোড়া থেকেই বলা যাক। জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, বাচ্চাদের খেলাধুলোর জন্য প্রশস্ত পার্ক ইত্যাদি নিয়েই সাজানো গোছানো শহর ইলিনয়। শহর ঘিরে রয়েছে একটি নদী। আর তার নাম ‘রক রিভার’! কেন জানো? নদীর ধার বরাবর সারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাথরের সব দ্বাররক্ষীর মূর্তি। রাস্তার ধারে অনেক সময় ছোটো বড়ো পাথর পড়ে থাকে। কখনো বা জলাশয় ঘিরে থাকে বোল্ডার। সেই সব পাথর আর বোল্ডার জড়ো করেই তৈরি হয়েছে এইসব দ্বাররক্ষীর মূর্তি। দেখলে মনে হবে যেন শহরের রক্ষাকর্তা তারা। এই পাথরের মূর্তিগুলির জন্যই এখানকার নদীর নাম দেওয়া হয়েছে রক রিভার। আশ্চর্য লাগছে শুনে? তাহলে আরও একটু খোলসা করে বলা যাক ছোট্ট বন্ধুরা। এটা কোনো প্রাকৃতিক কাণ্ডকারখানা নয়। বরং সুপরিকল্পিতভাবে এক ভাস্করের হাতে গড়া মূর্তিগুলি। নদীর পাড়টা সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্যই এই মূর্তি তৈরি করেছিলেন শিল্পী টেরেস অ্যাগনিউ। ১৯৮০ সালে একদল শিল্পীকে নিয়ে এসে নদীর ধারের বোল্ডারগুলো সাজিয়ে গড়ে তুললেন অসাধারণ সব মূর্তি। হঠাৎ দেখে মনে হবে একদল সৈন্য শহরটাকে পাহারা দিচ্ছে ঠায় দাঁড়িয়ে।
এই মূর্তিগুলো দেখার জন্য নদীর ধার বরাবর বাঁধানো রাস্তা দিয়ে বাইক বা গাড়ি চড়ে যান পর্যটকরা। যেতে যেতে দেখা যায়, নদী যেখানে বাঁক নিয়েছে সেখানেই অর্ধচন্দ্রাকারে মূর্তিগুলো বসানো রয়েছে। এছাড়া নদীর দিকে মুখ করে এই মূর্তিগুলো বসানো আছে বলে কায়াক বা নৌকো নিয়ে ওই জায়গায় গেলেও মূর্তিগুলো পর্যটকরা স্পষ্ট দেখতে পান। মূর্তিগুলো এতই সুদৃশ্য যে হঠাৎ দেখলে মানুষ বলেই ভুল হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর বেড়াতে গেলে অনেকেই ইলিনয় ঘুরতে যান। কারণ এমন সুন্দর মূর্তি তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করে থাকে।