নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: প্রযুক্তির যুগে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে এআই। যার দাপট সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই নয়া প্রযুক্তিকে সম্বল করে সেজে উঠছে কালিয়াগঞ্জের উত্তর চিরাইল বারোয়ারী দেশপ্রিয় ক্লাবের দুর্গামণ্ডপ। এই পুজোর আকর্ষণ ‘রোবোটিক সজ্জায় দুর্গাপ্রতিমা’। মণ্ডপটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে এআই প্রযুক্তির ছাপ বজায় রেখে। যেখানে দেবীমায়ের সজ্জায় থাকছে অত্যাধুনিক এলইডি আলোর কারসাজি। মায়ের ত্রিনয়ন থেকে ঠিকরে বের হবে নীল জ্যোতি। হাতের চক্র সহ যুদ্ধাস্ত্রগুলিতে থাকছে আলোর ঝলকানি। মহিষাসুর যে ত্রিশুলে বিদ্ধ, সেটি থাকবে আলোকরঞ্জিত। সেইসঙ্গে আলোকচ্ছটা বের হবে দুর্গার বাহন সিংহ ও মহিষাসুরের চোখ দিয়ে। যা হবে রক্তবর্ণ।
দুর্গামূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোবোটিক সজ্জায় সজ্জিত থাকছে লক্ষ্মী-সরস্বতী ও কার্তিক-গণেশ। আলো ও রঙের ছটায় মণ্ডপ জুড়ে থাকবে আকাশী রঙের মহাকাশ। মণ্ডপে থাকবে ৬টি আস্ত রোবোট। সেগুলির মধ্যে একটি বিচিত্র আওয়াজে কথা বলবে। কোনটি আবার বিভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে। যা মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের মন কাড়বে বলে আশা পুজো উদ্যোক্তাদের।ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক রিঙ্কু সিংহ বলেন, এবার আমাদের পুজো ৭৬ বছরে পদার্পন করবে। বর্তমান এআইয়ের যুগকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে আমাদের এবারের পরিবেশন রোবোটিক সজ্জায় দুর্গাপ্রতিমা। সেইসঙ্গে এআইয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলবে পুজো মণ্ডপের পাশে।
এআই অনুপ্রাণিত রোবোটিক সজ্জার দুর্গা প্রতিমার সৃজনশীল ভাবনা আর আলোকসজ্জায় বিরাটির শিল্পী সঞ্জীব দত্ত। তাঁর বক্তব্য, দেবীর ত্রিনয়নের মধ্যমণি অগ্নির প্রতীক, ডান চোখ সূর্যের প্রতীক ও বাম চোখ চন্দ্রের প্রতীক। আসলে এআইয়ের সাহায্যে আমরা দেবীর রুদ্র রূপ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। এআইয়ের ভালো দিক, মন্দ দিকের সম্বন্ধে দর্শকদের সচেতন করা আমাদের লক্ষ্য।