Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুষ্কৃতী ভাড়া করে ডাকাতির নাটক! মায়ের টাকা হাতাতে ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ছেলে সহ ৪

মায়ের কাছ থেকে টাকা হাতাতে দুষ্কৃতী ভাড়া! ডাকাতির পর অভিযোগকারী হয়ে নিজেই দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিসে।

দুষ্কৃতী ভাড়া করে ডাকাতির নাটক! মায়ের টাকা হাতাতে ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ছেলে সহ ৪
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মায়ের কাছ থেকে টাকা হাতাতে দুষ্কৃতী ভাড়া! ডাকাতির পর অভিযোগকারী হয়ে নিজেই দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিসে। তদন্তে নেমে ভাড়া করা তিন দুষ্কতীর সঙ্গে সেই গুণধর পুত্র বলাই হালদারকেও পাকড়াও করেছে পুলিস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে প্রগতি ময়দান থানা এলাকার বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গনের কাছে। ওই মেলা প্রাঙ্গণেই নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে বলাই। সাজানো প্লট অনুযায়ী, বলাইকে মারধর করে মায়ের কাছে থাকা টাকার ব্যাগ লুট করে পালায় ভাড়াটে অপরাধীরা। ছেলের এই কীর্তি জানার পর হতবাক মা!

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা বলাইরা একসময়ে পার্ক সার্কাস এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকত। বাড়িওয়ালার সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়নের পর বলাইয়ের পরিবার পার্ক সার্কাস থেকে পাততাড়ি গোটাতে রাজি হয়। ঠিক হয়, ঘর ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে হালদার পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা দেবেন বাড়িওয়ালা। কাগজপত্রে সইসাবুদ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই টাকা দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পুঢলিসের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, সেই টাকা হাতানোর ছক কষে বলাই। যোগাযোগ করে কসবার বাসিন্দা অমিত কুমার সৈনি নামে এক অ্যাপ বাইক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলাই। অমিতের বিরুদ্ধে ছোটখাট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ডাকাতির এই পরিকল্পনা রূপায়িত করতে আরও দু’জনকে সঙ্গে জোটায় সে। ঠিক হয়, টাকা নিয়ে ফেরার পথে অমিত ও তার দলবল হামলা চালিয়ে লুটপাট করবে। 
ওই সূত্রটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাকে বাইকে চাপিয়ে পার্ক সার্কাসে বাড়িওয়ালার কাছে নিয়ে যায় বলাই। টাকা মেলার পর তা ব্যাগে ভরে ছেলের বাইকে চেপে বসেন মা। বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণের কাছে আসতেই বলাইয়ের বাইক থামায় তিন যুবক। অভিযোগ, বলাইকে মারধর করে লাথি মেরে বাইক থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তার মা’র কাছ থেকে টাকার ব্যাগ কেড় নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। রাত ৮টা নাগাদ বলাই নিজে প্রগতি ময়দান থানায় গিয়ে টাকার লুটের অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে দেখে বেশ কিছু বিষয়ে খটকা লাগে তদন্তকারীদের।     
এর মাঝেই তাঁরা লক্ষ্য করেন, মা’কে কিছুতেই একা ছাড়ছে না  বলাই। প্রথমে মায়ের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা জানেন অফিসাররা। এরপর শুরু হয় বলাইকে জেরা পর্ব। তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগে, গতিতে ছুটে আসা বলাইয়ের বাইকটি কীভাবে থামাল দুষ্কৃতীরা?
এই প্রশ্নই করা হয় বলাইকে। অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় বলাইয়ের উপর সন্দেহ বাড়ে। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে সে জানায়, পুরোটাই তার পরিকল্পনা। সিসি ক্যামেরা নেই এমন জায়গায় ভাড়াটে দুষ্কৃতীদের দিয়ে টাকা লুট করানো হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয় বলাইকে। 
বলাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পারে, সিসি ক্যামেরা না থাকা কোন অংশে অপারেশন করতে হবে, কীভাবে মারধর করা হবে, পুরোটা সে অমিতকে আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিল। বলাইয়ের ফোন ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেন, পার্ক সার্কাস থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর সে অমিতকে ফোন করেছিল। সেইমতো টিম  নিয়ে অপেক্ষা করছিল অমিত। সেখানে আসার পর বাইকের গতি কমিয়ে দেয় বলাই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় ভাড়াটে দুষ্কৃতীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ