Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিনিকেতন: সোনার তরী আবাসনে ডাকাতির ঘটনা, অভিযোগপত্রে ‘কেস করব না’ বয়ানে বিতর্ক

শান্তিনিকেতনের সোনার তরী আবাসনে পরপর আটটি ফ্ল্যাটে টাকা ও গয়নাগাটি লুটের ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা।

শান্তিনিকেতন: সোনার তরী আবাসনে ডাকাতির ঘটনা, অভিযোগপত্রে ‘কেস করব না’ বয়ানে বিতর্ক
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের সোনার তরী আবাসনে পরপর আটটি ফ্ল্যাটে টাকা ও গয়নাগাটি লুটের ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্সির তরফে দায়সারা অভিযোগ করা হয়েছে বলে অভিমত অনেকের। শান্তিনিকেতন থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ‘কেস করব না’ লেখা দেখে কার্যত তাজ্জব আবাসিকরা। কোনও কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সোনার তরী ফেজ-টু এর বোর্ড অব ডিরেক্টরের অন্যতম সদস্য সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এত বড় আবাসনে কোনও সিসি ক্যামেরা না থাকায় পুলিসও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। আবাসিকদের একাংশও বিষয়টিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ‌। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। 

Advertisement

সোনার তরী ফেজ টু-তে পরপর আটটি ফ্ল্যাটে লুটপাটের ঘটনা সামনে আসে গত বৃহস্পতিবার। বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সির তরফে চিরঞ্জীব ঘোষ শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে আটটি বাড়ির মালিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাঁদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। তবে ঠিক তার নীচেই লেখা হয়েছে ‘কেস করব না’। সেই বয়ানেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এত বড় ঘটনায় কেন মামলা দায়ের করা হবে না, তা নিয়ে খোদ আবাসিকরাই প্রশ্ন তুলছেন‌‌। 
যাঁদের ফ্ল্যাটে ডাকাতি হয়েছে তাঁদের অধিকাংশের বাড়ি কলকাতা ও শহরতলিতে। তাঁদের মধ্যে দেবাশিস চৌধুরী, তপন গড়াই, দেবেশ নাথ বলেন, এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি দেখেই সোনার তরীতে ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। তবে নিরাপত্তা ও ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এমন গুরুতর ঘটনায় অভিযোগ জানিয়েও কেস করব না বলে হাত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা নিরাপত্তা এজেন্সি কীভাবে লিখতে পারে আমাদের জানা নেই। তবে বিষয়টিকে লঘু করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আবাসনে সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে আগে বারবার জানিয়েও কাজ হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তর গাফিলতি রয়েছে। দ্রুত প্রতিকার হলেই আবাসনের বাসিন্দাদের পক্ষে মঙ্গল। 
আবাসনের বোর্ড অব ডিরেক্টরের অন্যতম সদস্য সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগপত্রে ওই কথাটি লেখা আছে কি না আমার জানা নেই। তবে এমনটা আইনত লেখা যায় না। আমাকে এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। 
বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সির আধিকারিক চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, অভিযোগপত্র লিখে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি। এখনই কিছু করছি না। পুলিস আগে প্রাথমিক তদন্ত করে দেখুক। তারপর অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আবাসনের ম্যানেজার সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা যে ঘটবে, তা ধারণার বাইরে ছিল। তবে এক মাসের মধ্যেই সিসি ক্যামেরার বন্দোবস্ত করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ