নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ডাকাতির ঘটনা কী তাহলে বিহার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল! মহম্মদ এহসানকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্তকারীদের মাথায়। ২২ জুন রবিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপরই দুই ডাকাতকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিস। তাদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করতেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে বিহারের দ্বারভাঙা জেলার বিরল থেকে মহম্মদ এহসানকে গ্রেপ্তার করে বুধবার রাতেই শিলিগুড়ি নিয়ে আসে পুলিস।
তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারেন, ২০ জুন থেকে লাগাতার দুষ্কৃতীদের সঙ্গে টেলিফোনে কয়েক দফায় কথা বলেছিল তৃতীয় এই অভিযুক্ত। এরআগে সে ওই নম্বরগুলিতে ফোন না করলেও ২০ জুন থেকে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছিল। বিষয়টি জানতেই ধৃত এহসানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা করছে পুলিস।
যদিও ধৃত যুবকের পরিবার এদিন শিলিগুড়িতে এসেছিল। তাদের দাবি, এহসানের এক ছেলে দিল্লিতে যাওয়ার জন্য ট্রেনে চেপে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। তাকে পাটনায় উদ্ধার করে কয়েকজন। তারাই ফোন করেছিল। এরপর এহসান ছেলের খোঁজে তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করে। যদিও পরিবারের দাবি কতটা ঠিক, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিস।
এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, আমরা তৃতীয় অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। কেন, কী কারণে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে, তা জানার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিস সূত্রেই জানা গিয়েছে, ডাকাতির দিন যে আটজন সোনার দোকানে ঢুকেছিল, তাদের মধ্যে এহসান ছিল না। তবে ফোনে যোগাযোগ রাখার কারণে পুলিসের সন্দেহ কোনওভাবে ওই এলাকা থেকে নানা নির্দেশ দিয়ে ডাকাতি করানো হয়েছিল। যদিও তার স্বপক্ষে প্রমাণ পেতে তিনজনকেই মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এদিক, লুট হওয়া সামগ্রীর কিছুই এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই সেসব আদৌ কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।