নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়ালদহ থেকে পার্ক সার্কাস ও উল্টোডাঙাগামী ট্রেনে পরপর ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে রেল পুলিশের। পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এই দুই রুটে গত এক মাসে চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। খোয়া গিয়েছে যাত্রীদের মোবাইল ফোন বা সোনার চেন। প্ল্যাটফর্মে ঢোকা বা বেরনোর মুখে ট্রেনের গতি কম থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা ছিনতাই করে পালায় বলে অভিযোগ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
রেল পুলিশের খাতায় পার্ক সার্কাস বা উল্টোডাঙা স্টেশন থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। রেলের এই অংশে বিভিন্ন সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর শহরতলি থেকে আসা ট্রেন শিয়ালদহে ঢোকার মুখে একটি ব্রিজের কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। ওই জায়গাটি ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। একইসঙ্গে দক্ষিণ শহরতলির ট্রেন পার্ক সার্কাস ছেড়ে শিয়ালদহে ঢোকার আগে ক্ষণিকের জন্য দাঁড়ায়। ওই জায়গাতেও দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি রয়েছে বলে অভিযোগ। এই সুযোগকেই কাজে লাগায় ছিনতাইকারীরা। অনেক ক্ষেত্রে শিয়ালদহের প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার পর অপরাধীরা ছিনতাই করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।
গত ১৮ অক্টোবর শিয়ালদহের ১৭ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছাড়ার পর সামান্য এগতেই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির গলা থেকে সোনার হার ছিনতাই করে পালায় দুই দুষ্কৃতী। তার দশদিনের মাথায় ২৮ অক্টোবর ১৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছাড়ার পর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেখানে লক্ষাধিক টাকার মোবাইল ফোন খোয়া গিয়েছে এক যাত্রীর। ২৬ অক্টোবর কল্যাণী সীমান্ত লোকাল শিয়ালদহ স্টেশনে ঢোকার মুখে এক মহিলার সোনার হার ছিনতাই হয়। ৮ নভেম্বর শিয়ালদহ জিআরপিতে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর গলায় থাকা দামি সোনার হার ছিনতাই করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
রেল পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে, উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় রাতে দিকে মূলত ফাঁকা ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলি ঘটেছে। ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ছিনতাইয়ের পর পার্ক সার্কাস ও শিয়ালদহ স্টেশনের মাঝে যে ঝুপড়ি রয়েছে, সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে অভিযুক্তরা। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। সব ঘটনার পিছনেই একই গ্যাং রয়েছে বলে নিশ্চিত রেল পুলিশ। সম্প্রতি ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত কারা কারা জামিন পেয়েছে, সেই তালিকা ধরে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে রেলপুলিশ।