Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধৃত ছিনতাইবাজ

শান্তিপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধৃত ছিনতাইবাজ
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তাদের ‘টার্গেট’ ছিল বয়স্ক অথবা একাকী ব্যক্তি। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা নিয়ে বের হলেই প্রথমে অনুসরণ, তারপর নির্জন জায়গা দেখে করা হতো ছিনতাই। একটি অভিযোগের তদন্তে নেমে এমনই এক ছিনতাইবাজকে গ্রেপ্তার করল শান্তিপুর থানার পুলিস। তার বাকি সঙ্গীদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। সুদূর জলপাইগুড়ি থেকে রানাঘাট, হরিণঘাটা, শান্তিপুরের মতো ছোট শহরগুলিতে ছিনতাই করার জন্যই তারা আসত।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক মাসে রানাঘাট জেলা পুলিসের হরিণঘাটা, শান্তিপুর সহ একাধিক থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছিল। সম্প্রতি শান্তিপুর থানার বাসিন্দা এক ব্যক্তি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রাস্তার ধারে স্কুটি দাঁড় করিয়ে মিষ্টি কিনতে দোকানে ঢোকেন। স্কুটিতেই ছিল তাঁর টাকার ব্যাগ। দুষ্কৃতীরা চোখের পলকে সেই ব্যাগ ছিনতাই করে। ঘটনায় দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে শান্তিপুর থানা। দেখা যায়, রানাঘাট পুলিস জেলার বেশ কয়েকটি থানা এলাকায় একইভাবে ছিনতাই হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক-ফেরতদের, বিশেষত বয়স্কদের সুকৌশলে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছিল। গোপন সূত্র মারফত সেই ছিনতাইবাজদের মধ্যে একজনকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তার নাম সঞ্জয় গোয়ালা। বাড়ি উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার ফাটাপুকুর এলাকায়। এরপর পুলিসের একটি বিশেষ দল সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করে সঞ্জয়কে।
সোমবার বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট জেলা পুলিসের অতিরিক্ত সুপার লাল্টু হালদার বলেন, মাঝেমধ্যেই এরা জলপাইগুড়ি থেকে ছিনতাই করার জন্য এখানে আসত। জলপাইগুড়ি থেকে ট্রেনে প্রথমে শিয়ালদহ আসত। সেখান থেকে ট্রেনে উঠে যেকোনও জায়গায় নেমে পড়ত তারা। মূলত ছোট শহরগুলিকেই ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেওয়া হতো। রাতভর স্টেশনেই কাটাত। দিনেরবেলা বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে ব্যাঙ্ক-ফেরত বয়স্ক অথবা একাকী লোককে দেখে অনুসরণ করে টাকা ছিনতাই করে নেওয়া হতো। ধৃতের বাকি শাগরেদদের খোঁজে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। হেফাজতে ধৃতকে জেরা করা হবে।
সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করা গেলেও খুব সামান্য টাকাই উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জানিয়েছে, বাজারে তার বহু ধারদেনা রয়েছে। ছিনতাই করে উপার্জিত টাকা দিয়ে সে ধার শোধ করার কাজ করেছে। তাই নামমাত্র কিছু টাকা ছাড়া তার কাছে আর কিছুই নেই। তবে তদন্তে বাকিদের সন্ধান পেলে উদ্ধারের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ