সংবাদদাতা, পুরুলিয়া : পুরুলিয়া ২ ব্লকের পিঠাজোড় গ্রামে ঢোকার মুখে বেহাল রাস্তায় সমস্যায় বাসিন্দারা। প্রশাসনকে জানিয়েও কাজ না হওয়ায় শেষমেশ গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে অস্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগিয়েছেন। যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি সংক্রান্ত সমস্যার জন্য কাজ হয়নি। জমির সমস্যা মিটলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে। পুরুলিয়া ২ ব্লকের বেলমা পঞ্চায়েত। এখানকার জুনিয়র হাই স্কুল থেকে পিঠাজোড় গ্রামের শুরু পর্যন্ত রাস্তা দীর্ঘদিন বেহাল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই রাস্তা দিয়ে সাইকেল ও বাইক নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। অনেকেই রাস্তায় পড়ে জখম হয়েছেন। প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই গত কয়েকদিন ধরে চাঁদা তুলছেন। ফ্রি অর্থ দিয়ে নিজেরা পরিশ্রম করে রাস্তাটিকে সাময়িক যাতায়াতের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রিনা মাহাত বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে রাস্তাটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোরাম ফেলার কথা ছিল। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করছেন সেখানে জমির সমস্যা রয়েছে। গ্রামেরই এক বাসিন্দা ওই জায়গা রায়তি জমি বলে দাবি করে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পঞ্চায়েত সদস্য আরও বলেন, ওই ব্যক্তি সরকারি কোনও কাজ তার জমিতে হতে দিতে চান না। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে করলে অবশ্য কোনও আপত্তি নেই।
অন্যদিকে, মানচিত্রে যে এলাকায় ওই রাস্তা রয়েছে, তা আবার অন্য কয়েকজন দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। সেখানে গাছ লাগানো রয়েছে। এনিয়ে বেলমা পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্মী রজক বলেন, ওই গ্রামের রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কাজ না করার অভিযোগ সঠিক নয়। জমির এনওসি নিয়ে এলেই কাজ শুরু হবে। গ্রামবাসীদের চাঁদা তোলার প্রয়োজনই নেই। রাস্তার কাজের জন্য পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ রয়েছে। গ্রামবাসীরা শুধু এনওসি নিয়ে এলেই কাজ শুরু হবে। -নিজস্ব চিত্র