নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কারও পৌষমাস তো কারও সর্বনাশ। এই প্রবাদ সত্যি করে দিয়ে নভেম্বর মাসজুড়ে পর্যটকদের অভাবে ভুগছে হুগলির গুপ্তিপাড়া। মরশুমের সেরা সময় ডিসেম্বরেও পর্যটক জুটবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মূলত গুপ্তিপাড়ার দর্শনীয় স্থানগুলি ঘিরে থাকা রাস্তার বেহাল দশার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাস্তার এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে নদীয়া জেলার নবদ্বীপের সেতুর কারণে। বর্তমানে সেতু সংস্কারের কাজ চলছে। নবদ্বীপের মানুষ তাতে যতটা খুশি ততটাই কপাল পুড়েছে গুপ্তিপাড়ার।
জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ সেতু বন্ধ থাকায় শান্তিপুর ঘাট হয়ে পণ্যবাহী সহ বড় বড় লরি জলপথে চলে আসছে গুপ্তিপাড়া। তারপর ছ’নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যাচ্ছে কলকাতা। তার জেরে গুপ্তিপাড়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের জেরে রাস্তায় ধুলো উড়ছে। পথ বসে গিয়ে তৈরি হয়েছে গর্ত। এই পরিস্থিতির কারণে গুপ্তিপাড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পর্যটকরা। গুপ্তিপাড়া এক নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য ও প্রাক্তন উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ জানান, দিনভর তিনটি রাস্তা দিয়ে বড় বড় গাড়ি চলাচল করছে। ধুলো উড়ছে। জলকাদা তৈরি হচ্ছে। এই রাস্তাগুলি দিয়েই গুপ্তিপাড়ার দর্শনীয় স্থানগুলিতে যেতে হয়। ওটাই পর্যটন করিডরের মুখ্যপথ। রাস্তার বেহাল দশার কারণেই দেশি, বিদেশি কোনও পর্যটকই পা রাখছেন না। ডিসেম্বরেও পর্যটক আসবে বলে মনে হয় না। কারণ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবদ্বীপ সেতু বন্ধ থাকবে। এখন নতুন বছরই একমাত্র ভরসা। তবে পর্যটনের মুখ্য সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অসীম মাঝি জানান, সমস্যা একটা হয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই। রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে বিকল্প রাস্তা বেছে দিতেই হয়েছে। তবে ভারী যান চলাচল পর্ব বন্ধ হয়ে গেলে ওই রাস্তাগুলি পেভার ব্লক দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে। অক্টোবরে কিছুটা কাজ করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে তা শেষ করা হবে। তাতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে।
নভেম্বর থেকে হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায় পর্যটন মরশুম শুরু হয়। বৃন্দাবন জিউ মন্দির, রথযাত্রার পথ, জগন্নাথের মাসির বাড়ি, সূর্যমন্দির, সর্বমঙ্গলা ও দেশকাল মন্দির, বাংলার প্রথম বারোয়ারি পুজোর মন্দির এসবই গুপ্তিপাড়ার দর্শনীয় স্থান। এই জায়গাগুলিতে দেশি, বিদেশি পর্যটকদের ঢল নামে। জানুয়ারি মাসেও ভিড় থাকে। গুপ্তিপাড়া ফেরিঘাট থেকে বাঁধাগাছি ও জামতলা, দু’টি রাস্তা এবং মনসাতলা থেকে গুপ্তিপাড়া রেলগেট, এই তিনটি রাস্তাই সমস্ত দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার পথ। এবার নভেম্বরের শুরুতেই গুপ্তিপাড়ার তিনটি রাস্তা ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গুপ্তিপাড়ার পর্যটন। নিজস্ব চিত্র