নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর অন্যতম পর্যটনস্থল খাঁদারানি হ্রদ। শাল-পিয়ালের জঙ্গল ও ডুংরি ঘেরা স্বচ্ছ জলের ড্যাম। পর্যটকরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। পর্যটনস্থলে যাওয়ার জন্য এখনও কোনও পিচ রাস্তা নেই। জল-কাদায় ভরা মোরাম রাস্তায় গাড়ির চাকা বসে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকরা যাতায়াত করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বিনপুর-২ বিডিও সুমন ঘোষ বলেন, রাস্তাগুলির কিছু জায়গা বনদপ্তরের অধীনে রয়েছে। জেলাশাসক বনদপ্তর, ব্লক প্রশাসন ও জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে কিছুদিন আগেই বৈঠক করেছেন। বনদপ্তরের আওতায় থাকা জায়গায় যেসব রাস্তা করা যাচ্ছে না সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। বন বিভাগের তরফে অনুমোদন মিললেই ভুলাভেদা পঞ্চায়েত এলাকার ওই রাস্তা তৈরির কাজ করা হবে।
বর্ষা শুরুর আগেই পর্যটকরা খাঁদারানি হ্রদ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। বারেদহ নদীর জলে পুষ্ট এই হ্রদ। হ্রদটিতে যাওয়ার তিনটি রাস্তা আছে। দোমোহানি থেকে বারিঘাটি গ্ৰাম হয়ে খাঁদারানি হ্রদ যাওয়ার তিন কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। হ্রদের উল্টো দিক দিয়ে একটি রাস্তা আছে। গোয়ালবেড়া হয়ে হ্রদে যাবার আরও একটি রাস্তা হয়েছে। মোরাম দেওয়া তিনটি রাস্তাই দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই ওইসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা মোরামের রাস্তাগুলি পিচের করার দাবি তুলছেন। কানাইসোর পাহাড়ের পাদদেশের নীচে আগে থেকেই ছোট জলাশয় ছিল। প্রশাসন জলাশয়টিকে ড্যামে রূপান্তর করে। আমলাশোল, আগুইবিল, আমরোলা, কুলডোবা সহ ১৩টি গ্ৰামের বাসিন্দা চাষের কাজে হ্রদের জল ব্যবহার করেন। বর্ষার সময় পাহাড় ও জঙ্গল ঘেরা এই হ্রদের চারপাশ সবুজ হয়ে ওঠে।
দোমোহানি এলাকার বাসিন্দা গোপাল মুর্মু বলেন, খাঁদারানি হ্রদের জলের উপর এই এলাকার মানুষ নির্ভরশীল। পর্যটনস্থল হওয়ার কারণে বহু পর্যটক এখানে আসেন। হ্রদের দিকের যাওয়ার তিনটি মোরামের রাস্তাই জল-কাদায় ভরে থাকছে। চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। পর্যটকদের গাড়ির চাকা রাস্তায় আটকে যাচ্ছে। পিচের রাস্তা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
অপর এক বাসিন্দা জগদীশ মুণ্ডা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা খাঁদারানি হ্রদের জল সেচের কাজে ব্যবহার করেন। পর্যটনস্থল হওয়ার জন্য এলাকার মানুষের রোজগারও বেড়েছে। যে হ্রদকে কেন্দ্র করে আমাদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে সেখানে ভালো রাস্তা নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা নিত্যদিন সমস্যায় পড়ছেন। পর্যটকরাও বেড়াতে এসে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বেলপাহাড়ী এলাকার এক পর্যটন ব্যবসায়ী বলেন, এবছর গরম বেশি পড়েনি। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পর্যটকরা আসছেন। খাঁদারানি হ্রদ যাবার তিনটি মোরামের রাস্তাই বৃষ্টিতে আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। পর্যটকরা সমস্যায় পড়ছেন। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার বলেন, ব্লকে একাধিক নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পুরনো রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। পঞ্চায়েতের ফান্ডে ওই রাস্তা তিনটি সংস্কার করা সম্ভব নয়। জেলা পরিষদকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র