সংবাদদাতা. বোলপুর: বোলপুরের মকরমপুরের রাস্তা, দিন দিন হয়ে উঠছে দুর্ভোগের অপর নাম। কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি জরাজীর্ণ, কঙ্কালসার অবস্থায় ছিল। এই বেহাল অবস্থায় থাকার দরুন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি সাক্ষাৎ নরকযন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুর্বিষহ পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকবার আন্দোলন ও প্রতিবাদও হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ। একসঙ্গে চলছে রাস্তা সংস্কার, পাইপলাইন ও বিদ্যুতায়ন পর্ব। ফলে, এই প্রবল গরমেও এক মাস ধরে পানীয় জল ও বিদ্যুতের সমস্যায় জর্জরিত ওই এলাকার মানুষ। মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে বেশকিছু বাড়ির মূল্যবান বৈদ্যুতিক সামগ্রী পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরেও সংস্কারের কাজে গতি নেই। ফলে সামগ্রিকভাবে এই তিন কাজ অত্যন্ত ঢিমেতালে হচ্ছে বলে ওই এলাকার মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্বভাবতই, ঠিকাদারদের কাজের ধরনে অতিষ্ঠ মকরমপুরবাসী।
লালপুল থেকে চিত্রা মোড় হয়ে লাভপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩.৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তার গতি অত্যন্ত মন্থর। পূর্ত ও সড়ক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কাজের গতি এতটাই ধীর যে কবে এই দুর্ভোগ শেষ হবে, কেউই তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারছে না। রাস্তা খোঁড়ার কাজ শুরু হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাস্তা খোঁড়া, পাইপলাইন স্থাপন এবং বিদ্যুতায়নের কাজ চলায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রসঙ্গত, রাস্তা সংস্কারের কাজের মাঝে এই প্রখর দাবদাহে গত এক মাস ধরে মকরমপুর এলাকার মানুষ পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। দিনের পর দিন জল না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই লোডশেডিংয়ের কারণে প্রবল গরমে হাঁসফাঁস করছেন বয়স্ক ও শিশুরা। তারই মাঝে সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। হাই ভোল্টেজের কারণে বেশ কয়েকটি বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, সিসি ক্যামেরার মতো মূল্যবান বৈদ্যুতিন সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঠিকাদারদের ঘিরে বিক্ষোভও দেখান। এলাকার বাসিন্দা সৌগত সামন্ত, বিশ্বরূপ দাসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের নামে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কখনও পানীয় জল নেই, কখনও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রায়শই লোডশেডিং। সর্বোপরি, ঠিকাদার সংস্থা অত্যন্ত ঢিলেমিভাবে কাজ করছে। একসঙ্গে তিনটি কাজ শুরু করার আগে উপযুক্ত পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে একদিকে যেমন রাস্তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে, তেমনই জল ও বিদ্যুতের অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। স্বভাবতই এলাকাবাসীর ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। মকরমপুরের রাস্তা সংস্কারের কাজ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটা চললে বড়সড়ো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। বিষয়টি জানতে পেরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ জেলাশাসক বিধান রায়। তিনি বলেন, ঢিলেমি মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।