সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের পূর্ব পাড়ের স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে জেটিতে ওঠানামার রাস্তার দু’দিকের লোহার চ্যানেল জং ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমনকী চ্যানেলের উপরে বেশকিছু কাঠের পাটাতন ভেঙে গিয়েছে। খুবই বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে জেটিতে ওঠানামার রাস্তাটি। ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, অবিলম্বে লোহার ওই চ্যানেলগুলি মেরামত না করলে যাত্রী ভিড়ের চাপে যেকোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শুধুমাত্র জেটিতে যাতায়াতের রাস্তাই নয়, জেটির বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে জল ঢুকে যাচ্ছে। এমনকী কিছু কিছু জায়গা বসেও গিয়েছে। এই জেটির যাতায়াতের রাস্তাটি মেরামতির জন্য জেলা পরিষদকে আবেদন জানিয়েছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, বিষয়টি বারবার জেলা পরিষদকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হচ্ছে না।
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, স্বরূপগঞ্জের জেটির রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। উপনির্বাচনের জন্য জেলাজুড়ে এখন নির্বাচন বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। যথা সময়ে কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাট নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি জেলা পরিষদের থেকে ইজারা নিয়ে চালাচ্ছে। তিন বছর অন্তর ছয় কোটি টাকা ইজারা দিতে হয়। প্রায় দু’বছর ধরে স্বরূপগঞ্জ ঘাটের জেটির অবস্থা খারাপ। স্বরূপগঞ্জ ঘাট থেকে নবদ্বীপের মধ্যে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। উৎসবের সময় সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ভিড় বাড়লে জেটির রাস্তার পরিবর্তে বাঁশের মাচা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, এই জেটিতে যাতায়াতের রাস্তার লোহার প্লেট থেকে শুরু করে কাঠ সমস্ত কিছুই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যে কোনও সময় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। আমরা বহুবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কাজ হচ্ছে না। জেলা পরিষদ থেকে বলছে অর্থ অনুমোদন হয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে জেটির যাতায়াতের রাস্তাও খারাপ হয়ে রয়েছে।
জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সদস্য তথা ওই ফেরিঘাটের ইনচার্জ নারায়ণচন্দ্র অধিকারী বলেন, যে কোনও মুহূর্তে লোহার কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। সেই জন্য ভিড় বেশি হলে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য জেটির রাস্তার পরিবর্তে বাঁশের মাচার ব্যবস্থা করা হয়। কারণ, বিপদ ঘটলে প্রথমে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকেই চেপে ধরবে সাধারণ মানুষ।
নবদ্বীপ থানা ফেরিঘাট কর্মচারী ইউনিয়নের সম্পাদক আশিস ঘোষ বলেন, সামনেই শিবনিবাসের মেলা। ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ভিড় হয়। সেই সময় ফেরিঘাটে প্রচুর চাপ পড়বে। মেরামতির জন্য জেলা পরিষদের কাছে বহুবার আবেদন করা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র