নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে বদলে গেল কলকাতা শহরে রাস্তার গর্ত মেরামতির চিরাচরিত পদ্ধতি। আর দুরমুশ নয়, এবার মেশিন দিয়েই রাস্তার গর্ত মেরামতি হচ্ছে শহরে। বাঁশের মুখে ভারী লোহা বেঁধে যে কাজ করা হতো এতদিন, সেই কাজই অনেক সহজে হচ্ছে মেশিনের মাধ্যমে। উন্নত হচ্ছে কাজের মানও। আপাতত একটি মেশিন কিনেছে কলকাতা পুরসভা। কাজ ঠিকঠাক চললে আগামী দিনে এরকম আরও ছ’-সাতটি যন্ত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে পুর-কর্তৃপক্ষের।
রাস্তার গর্ত মেরামতির সময় পিচ দেওয়ার পর দুরমুশ করা হতো। তাতে গর্ত ভরাট হলেও জায়গাটি কিছুটা উঁচু হয়ে থাকে। তাছাড়া, দ্রুত সেই পিচের আস্তরণ উঠে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা এড়াতে দুরমুশের জন্য মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। এখন গর্ত পিচ দিয়ে বুজিয়ে দেওয়ার পর মেশিনের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন দেওয়ার পিচ ভালোভাবে মিশে যাচ্ছে রাস্তার সঙ্গে। গর্ত ভরাটের পর রাস্তা আর উঁচু হয়েও থাকছে না। পুরসভার সড়ক বিভাগ জানাচ্ছে, আপাতত ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে একটি মেশিন কেনা হয়েছে। দাম পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। শহরের কয়েকটি রাস্তায় এই মেশিন কাজে লাগিয়ে কাজও হয়েছে। ইতিমধ্যে রুবি মোড়ের রাস্তায় এবং সার্দান অ্যাভিনিউতে বেশ কিছু গর্ত মেরামতি করা হয়েছে এভাবে। সড়ক বিভাগ সূত্রে খবর, মেশিনে দুরমুশ করলে জায়গাটি অনেক বেশি মসৃণ থাকছে। রাস্তায় উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো না থাকায় চালক থেকে পথচারী—প্রত্যেকেরই সুবিধা হবে। মেশিনটির পোশাকি নাম ‘ট্যাম্পিং র্যামার’। এক পুরকর্তা বলেন, ‘শুধু গর্ত মেরামতই নয়, প্যাচওয়ার্ক বা রাস্তায় তাপ্পি মারার কাজেও আস্তরণ মসৃণ করতে এই মেশিন কাজে লাগছে। অনেক জায়গায় ছোট ছোট প্যাচওয়ার্ক করতে হয়। সেক্ষেত্রে এই মেশিনটি রোলারের কাজ করবে। মনেই হবে না যে নতুন করে পিচ করা হয়েছে বা তাপ্পি মারা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মেশিনের ‘পারফরম্যান্স’ আরও কিছুদিন দেখা হবে। তারপর এরকম আরও ছ’-সাতটি মেশিন কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারে।