সংবাদদাতা তারকেশ্বর: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে তারকেশ্বর ব্লকের লোকনাথ থেকে পারাম্বুয়া যাওয়ার রাস্তা। এই রাস্তার উপর রয়েছে মির্জাপুর। সেখানে কুমোরপাড়া রয়েছে। কয়েকশো প্রতিমা তৈরি হয়। রাস্তা খানাখন্দে ভরেছে বলে প্রতিমা সমেত যাতায়াতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা। প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। এই রাস্তার দৈর্ঘ্য ৪.৭৩ কিলোমিটার। মেরামতের দাবি আগেও জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। পুজোর আগে সে দাবি আরও জোরদারভাবে উঠল।
২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর এই রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। জেলা পরিষদের পূর্ত বিভাগ এক কোটি ৯৮ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ করেছিল। একটি সংস্থা কাজ শুরু করার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান বিভিন্ন দপ্তরে। তারপর অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসেন পূর্ত আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর পূর্ত বিভাগের নির্বাহী আধিকারিক পরিবর্তন হয়। সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা মেরামতের কাজ। এরপর রাস্তা আরও ভেঙেছে। ফলে দ্বিগুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মির্জাপুর, লোকনাথ, পারাম্বুয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কয়েকবার ইট দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল। তবে পাকাপাকিভাবে সারানো হয়নি।
ধনেখালি ও তারকেশ্বর ব্লকের সংযোগকারী এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিন ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ, এই রাস্তায় যেতে হবে শুনলে আতঙ্ক বাড়ে এলাকার মানুষের। অসুস্থ বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রবল সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক এই আবেদন সবার। জানা গিয়েছে বংশী, মদন শীল সহ পাঁচ মৃৎশিল্পী রাস্তা মেরামত করার আবেদন জানিয়েছেন। এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রতিমা মণ্ডপে বা বাড়িতে যাওয়ার পথে নষ্ট হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় জানান, রাস্তাটি প্রধানমন্ত্রীর সড়ক যোজনার অন্তর্গত। কেন্দ্রের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন মিলছে না। মৃৎশিল্পীদের কথা ভেবে ১২ নম্বর রোড পর্যন্ত মেরামত হবে। মহালয়ার আগে কাজ শেষ হবে। নিজস্ব চিত্র