Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্যাকের ঘাট থেকে হুলোর ঘাট যাওয়ার রাস্তা বেহাল

ট্যাকের ঘাট থেকে হুলোর ঘাট যাওয়ার রাস্তা বেহাল
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: একেই নিচু রাস্তা। তার ওপর নেই নিকাশি। অল্প বৃষ্টিতে জল জমে যায় মায়াপুর ট্যাকের ফেরিঘাট থেকে হুলোর ঘাট বাস স্ট্যান্ড যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় নবদ্বীপ ও মায়াপুর ঘাটের মধ্যে পারাপার করা মানুষদের। ফেরি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার বার বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানিয়েও সুরাহা হচ্ছে না। 

Advertisement

মায়াপুর ট্যাকের ঘাট থেকে হুলোর ঘাট বাস স্টান্ড পর্যন্ত প্রায় আড়াই শো মিটার ঢালাই রাস্তাটি বেশ নিচু। অল্প বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় জল জমে যায়। অথচ কয়েক হাজার মানুষ এই ফেরিঘাট দিয়ে মায়াপুর থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নবদ্বীপে যাতায়াত করেন। আবার নবদ্বীপ ফেরিঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে মায়াপুরের ট্যাকের ঘাট দিয়ে মায়াপুরের বিভিন্ন মঠ মন্দির দর্শনে যান বহু পর্যটক। 
ওই রাস্তার দু’ ধারে রয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী বেশকিছু দোকান ও হোটেল। আর মায়াপুর হুলোর ঘাট বাস স্ট্যান্ড। হুলোর ঘাট বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস ধরে কৃষ্ণনগর ও ধুবুলিয়া যাতায়াত করেন অনেকে। 
নবদ্বীপ এবং ট্যাকের ঘাটের মধ্যে ১৫ মিনিট অন্তর নৌকা চলাচল করে। ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত নৌকা চলাচল করে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। ট্যাকের ঘাট থেকে হুলোর ঘাট বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর আগে এই ঢালাই রাস্তাটি তৈরি হয়। অথচ রাস্তার দু’ ধারে নিকাশি নর্দমা তৈরি হয়নি। ফলে বৃষ্টির হলে জল জমে যায় সহজেই। এছাড়া রাস্তাটি নিচু হওয়ার জন্য এই রাস্তার পাশে হোটেল বা বাস স্ট্যান্ড ধোয়ার জল রাস্তায় এসে পড়ে। কর্দমাক্ত রাস্তায় হাঁটাচলাই দায়।
মায়াপুরের বাসিন্দা ‘জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি’-র সদস্য  মুস্তাকিন মণ্ডল বলেন, বিভিন্ন সময় ঈদ, রথযাত্রা, ঝুলন, দোল উপলক্ষ্যে যে প্রশাসনিক মিটিং হয়, সেই মিটিংয়ে আমরা বার বার রাস্তার বিষয়টি তুলে ধরি। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও আশ্বাস দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। 
মায়াপুরের বাসিন্দা আইজেল শেখ ও করজ মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন মায়াপুর থেকে নদী পার হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার নির্মাণ শ্রমিক নবদ্বীপে যান। বর্ষায় এই রাস্তায় তাঁদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, এ রাস্তায় জল জমে গেলে বিশেষ করে সমস্যায় পড়েন মহিলারা। অবিলম্বে এই রাস্তাটি উঁচু করার দরকার। এই ফেরিঘাট জেলা পরিষদের। সেজন্য আমরা জেলা পরিষদকে বারংবার বলেছি।
নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, ফেরিঘাটগুলি থেকে জেলা পরিষদ কোটি কোটি টাকা আয় করে। অথচ কোনও পরিষেবা তারা দেয় না। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে এই রাস্তা করা সম্ভব নয়। নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহন দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, মায়াপুর হুলোর ঘাটের সংযোগকারী রাস্তাটির বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। রাস্তাটি করে দেওয়ার জন্য  আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ