নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সন্ধ্যা নামলেই রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায়। তার উপর পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে রাস্তার অবস্থা বেহাল। এই রাস্তা মানুষের চলাচলের একেবারে অযোগ্য। অবশেষে বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আলোর ব্যবস্থা করা হলেও রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়নি। জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া থেকে হাঁটাল পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার হাল কবে ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পঞ্চায়েত সমিতি। শেষমেশ চাপে পড়ে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে তারা।
হাওড়া-আমতা রোড থেকে বাস ধরতে কিংবা বড়গাছিয়া স্টেশন যেতে হলে এই রাস্তার বিকল্প নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন বড়গাছিয়া-হাঁটাল রোড দিয়ে। বিশেষ করে হাঁটাল, অনন্তবাটি, সাদাতপুর, মানসিংহপুর, বোহারিয়া ও পাতিহাল গ্রামের একাংশের বাসিন্দাদের কাছে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি এই রাস্তা। পিচের আস্তরণ কবেই উঠে গিয়েছে। কঙ্কালসার রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে টোটো। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অটোর যন্ত্রাংশ। বাসিন্দারা বলেন, এতদিন রাস্তাটি অন্ধকার থাকার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছিল। আলোকবাতির ব্যবস্থা হলেও রাস্তার হাল খুব খারাপ। সাদাতপুরের বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক পবিত্র দাস বলেন, ‘রাত-বিরেতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ভীষণ সমস্যা। রাস্তার যেটুকু অংশে পিচ ছিল, গত বর্ষায় তাও ধুয়ে গিয়েছে। গাড়ির চাকা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
জানা গিয়েছে, সংখ্যায় কম হলেও আগে এই রাস্তায় হাওড়া-হাঁটাল রুটের মিনিবাস চলত। বেহাল রাস্তার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সেই বাস পরিষেবা বন্ধ। ফলে যাতায়াত করতে এখন অটো ও টোটোই ভরসা। বড়গাছিয়া থেকে হাঁটাল পর্যন্ত গোটা রাস্তা সংস্কারের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতার কারণে রাস্তা সারাইয়ের কাজে দেরি হচ্ছিল। টেন্ডার সম্পূর্ণ হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’ নিজস্ব চিত্র