সংবাদদাতা, মানকর: আউশগ্রাম-২ ব্লকের অভিরামপুর ক্যানাল ব্রিজ থেকে কলাইঝুঁটি গ্রামের ক্যানাল ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পিচের রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ফেটে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় পিচ সরে গিয়ে পাথর বেরিয়ে এসেছে। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। যদিও এড়াল পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ওই রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাইঝুঁটি, তেলতা সহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা অভিরামপুর বাজারের উপর নির্ভর করেন। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়াও চাষের বীজ, সারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার জন্য অভিরামপুর বাজার আসতে হয়। অনেকে ব্যবসার জন্য নিয়মিত এই রাস্তায় অভিরামপুরে আসেন। গুসকরা-মানকর রাস্তায় আনন্দবাজার মোড় বা মাঝিপাড়া মোড় হয়ে অভিরামপুর আসা যায়। কিন্তু সেটা অনেকটা ঘুরপথ। এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াতের সুবিধার জন্য ক্যানাল পার বরাবর অভিরামপুর আসেন। রাস্তার চাপও থাকে। তাছাড়া রাস্তার একপাশে জমির ধান তোলার জন্য চাষিরা এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর, গোরুর গাড়ি নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একসময় এই রাস্তা মোরামের ছিল। তাতে বর্ষায় যাতায়াতে খুবই অসুবিধা হতো। রাস্তায় কাদা হতো, জল জমে থাকত। পরে এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধার কথা ভেবে পিচ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, বহু মানুষ অভিরামপুর থেকে দোকানবাজার করে রাতে এই রাস্তা ধরে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। পাথর বেরিয়ে এসেছে। যেকোনও সময় সাইকেলের চাকা স্লিপ খেয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, রাস্তার বেশকিছু অংশে বেশ বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তাতে সাইকেলের চাকা পড়লে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সামনেই ঝড়-বৃষ্টির মরশুম আসছে। বৃষ্টি পড়লে ওই গর্তগুলিতে জল জমে তখন দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দেবে। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে এড়াল পঞ্চায়েতের প্রধান পানো মার্ডি বলেন, রাস্তাটি খারাপের কথা আমি জানি। সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে।