সংবাদদাতা, মানবাজার: রাস্তার দৈর্ঘ্য এক কিমির কিছু বেশি। জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এই সামান্য রাস্তা নির্মাণে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ঢাক ঢোল পিটিয়ে রাস্তার উদ্বোধনও হয়। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন বাসিন্দারাও। কিন্তু, কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেই রাস্তায় দেখা দেয় ফাটল। ঢালাই রাস্তার কোথাও কোথাও কিছুটা অংশ উঠেও যায়। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে স্থানীয়দের। লজ্জা ঢাকতে তাই ঢালাই রাস্তার উপর দেওয়া হয়েছে পিচের প্রলেপ! মানবাজার বাইপাস রাস্তা নিয়ে এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। কেন কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তার এমন হাল হল, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
মানবাজারের ইন্দকুড়ি থেকে বাইপাস হয়ে পোদ্দারপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ১১০০ মিটার। ওই রাস্তাটি জেলা পরিষদের অধীনে। মানবাজার শহরের যানজট এড়াতে বাইপাস রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বাস সহ ভারী যানবাহন। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির অবস্থা ছিল শোচনীয়। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভও দেখান। গত বছর জেলা পরিষদ ওই রাস্তাটির জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করে। দু’মাস ধরে ওই রাস্তার ঢালাই কাজ হয়। তারপর শুরু হয় রাস্তা দিয়ে যান চলাচল। কিন্তু, কয়েক মাসের মধ্যেই ঢালাই রাস্তায় দেখা দেয় ফাটল। কোথাও কোথাও ঢালাই উঠে গর্তও তৈরি হয়। রাস্তার কাজ শুরুর সময়েই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন বাসিন্দারা। তখন বিষয়টি নিয়ে কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই এই হাল বলে দাবি বাসিন্দাদের। এতদিনে লজ্জা ঢাকতে রাস্তার উপর পিচ দেওয়া হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
মানবাজারের উপর পাড়ার বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ দত্ত বলেন, রাস্তাটি তৈরির সময়েই আমরা ঢালাইয়ের গুণমান নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। ওই রাস্তাটি সঠিক নিয়মে করা হয়নি। তাই কয়েকদিনের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
জানা গিয়েছে, বাইপাস রাস্তায় রয়েছে একটি কালভার্ট। ওই জায়গায় রাস্তাটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দু’পাশের মাটিও সরে গিয়েছে। তার উপর দিয়েই ছুটছে বাস সহ বড় বড় লরি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে কোনও দিন ঢালাই ভেঙে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তাটি নিয়ে ঠিকাদার সংস্থাকে বহুবার জানানো হলেও কোনও কর্ণপাত করা হয়নি।
মানবাজারের পোদ্দারপাড়ায় বাইপাস রাস্তার পাশেই বাড়ি বাপি দত্তের। তিনি বলেন, রাস্তার কাজে প্রথম থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে তো রাস্তাটি সরু করে তৈরি করা হচ্ছিল। তারপর আমরা বিডিওকে বিষয়টি জানাই। পরে রাস্তাটি কিছুটা চওড়া করে ঢালাই করা হয়। তবে সঠিক মাত্রায় সিমেন্ট, বালি, পাথর দিয়ে ঢালাই করা হয়নি। তাই কয়েকদিনের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হংসেশ্বর মাহাত বলেন, রাস্তাটি নির্মাণ বর্ষাকালে হয়েছিল। বৃষ্টিতে সেই সময় ঢালাই কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় অনেকদিন ওই রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ভারী গাড়ি চলতেই মাটি বসে কয়েক জায়গায় রাস্তাটিতে ফাটল বা গর্ত দেখা দেয়। ইঞ্জিনিয়াররা দেখার পর সেগুলি পিচ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।
তবে অনেকের প্রশ্ন, ঢালাই রাস্তার উপর কেন পিচ দেওয়া হল? বিজেপির মানবাজার বিধানসভার কনভেনর বাণীপদ কুম্ভকার বলেন, শাসকদলের নেতা থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা কাটমানি খেয়েছেন। তার জন্যই এই অবস্থা। পরে দুর্নীতি ঢাকতে ঢালাই রাস্তার উপর পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের উপর পিচ কতদিন টিকে থাকবে?