নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা বেহাল। অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে। গাড়ির চালক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ, সিউড়ি-সাঁইথিয়া ও সাঁইথিয়া-বোলপুরের রাজ্যসড়কের সংযোগকারী ওই রাস্তা সংস্কারে পুরসভা কোনও ভূমিকা নিচ্ছে না। তবে খানাখন্দ ভরাতে পাথর-মাটি ফেলা হয়েছে। যদিও তা সত্ত্বেও রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। সাঁইথিয়া পুরসভার দাবি, ওই রাস্তা সংস্কারে পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই সংস্কার শুরু হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের জেরেই রাস্তাটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে রাস্তার ভার বহন ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। সাঁইথিয়া পুরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের উপর দিয়ে চলে গিয়েছে সিউড়ি-সাঁইথিয়া ও সাঁইথিয়া-বোলপুর রাজ্যসড়কের সংযোগকারী রাস্তাটি। যদিও প্রথমে ওই রাস্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার জন্য পুরসভার তরফে তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রায় এক বছর আগে ওই পথে রেলগেট তৈরি হওয়ায় ভারী যান চলাচল শুরু হয়। পাশাপাশি মাঝে বেশকিছু সময় নতুন ব্রিজ বন্ধ থাকায় ওই রাস্তার উপর চাপ আরও বেড়ে যায়। পণ্যবাহী ভারী ভারী গাড়ি ওই পথ ধরে ছুটতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ থেকে পিচের আস্তরণ সরতে শুরু করে। কঙ্কালসার রাস্তা জুড়ে একের পর এক খানাখন্দ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টির শুরু হতেই পুরসভার তরফে খানাখন্দে মাটি-পাথর ফেলে গর্ত বুজিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় কৃষাণ দাস বলেন, রাস্তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমরা চাই রাস্তা সংস্কার করা হোক। টোটোচালক বাবন সাহা বলেন, প্রায় এক বছর হল রাস্তা খারাপ। এভাবে চলাচল করায় বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বছর পাঁচেক আগে পুরসভা নিজস্ব অর্থে ১.২ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছিল। সেই রাস্তার ভারবহন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ টন। কিন্তু ১০ গুণ ভারী গাড়ি চলাচল করায় রাস্তা বেহাল হতে সময় লাগেনি। এবার পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সংস্কারের সময় রাস্তার ভারবহন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। তা করতে প্রায় এক কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হবে।



