সংবাদদাতা, বোলপুর: ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতির পর থেকেই বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে নতুন গেট। চলছে সৌন্দর্যায়নের কাজও। এবার রতনপল্লি থেকে সুভাষপল্লি যাওয়ার একটি পুরানো রাস্তা পাঁচিল তুলে বন্ধ করে দেওয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করতেন স্থানীয় বাসিন্দা, টোটোচালক ও পর্যটকেরা। এই পথ দিয়েই সহজে সুভাষপল্লী ও শ্যামবাটি যাওয়া যেত। ডেইলি ব্রেড রোড নামে পরিচিত ওই রাস্তার ধারে রয়েছে একাধিক হোটেল, হোমস্টে ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তাই সারাদিনই মানুষের যাতায়াত লেগেই থাকত। সম্প্রতি ওই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ফলে এখন অনেকটাই ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। যদিও বিকল্প হিসেবে একটি নতুন পাকা রিং রোড তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন রাস্তা অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। রাতে পর্যাপ্ত আলোও নেই। তাই নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার পুরনো রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে প্রাচীরের সামনে আটকে পড়েন টোটোচালক সোমনাথ চৌধুরী, পর্যটক শম্পা মল্লিক সহ কয়েকজন। তাঁরা বলেন, আগে থেকে কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। হঠাৎ মাঝপথে গিয়ে রাস্তা বন্ধ দেখতে হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পর্যটক উভয়েই সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন সিং বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমাদের সহজে যাতায়াত করা হত। এখন অনেকটা পথ ঘুরতে হচ্ছে। বিশ্বভারতীতো এখন চারিদিকেই পথ আটকে দিচ্ছে। স্থানীয় মানুষদের কথাটাও ভাবা উচিত।
যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি পাকা বিকল্প রাস্তাও করে দেওয়া হয়েছে। তাই কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ক্যাম্পাসকে সুরক্ষিত রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় বিশ্বভারতীর নিজস্ব কোয়ার্টার ও বিভাগ রয়েছে। কিছু কোয়ার্টার পরিত্যক্ত ও ভগ্নপ্রায়। ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বহু প্রতীক্ষিত রিং রোড প্রকল্পের কাজও শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা খুলে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নানা আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ আটকে ছিল। এই প্রকল্পে বাকি রাস্তার কাজও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, রিং রোড চালু হয়ে যাওয়ায় আগামীতে রতনপল্লী এলাকায় যানজট অনেক কমবে। পর্যটনের মরশুমে যান চলাচল আরও সহজ হবে। ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক, এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও সুবিধা পাবেন।