Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় পানীয় জলের দাবিতে পথ অবরোধ

বাঁকুড়ায় পানীয় জলের দাবিতে পথ অবরোধ
  • ১৭ মে, ২০২৫ ০৫:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুক্রবার পানীয় জলের দাবিতে অবরোধ ঘিরে বাঁকুড়া সদর থানার আঁচুরি গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন সকাল থেকে স্থানীয়রা বাঁকুড়া-শালতোড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। ব্যস্ত সময়ে অবরোধের জেরে যানজট দেখা দেয়। খবর পেয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি(পিএইচই) দপ্তরের আধিকারিকরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরোধ তুলতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিস আধিকারিকদের বচসা শুরু হয়ে যায়। অবশেষে আলোচনাসাপেক্ষে পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement

আন্দোলনকারী উমা সিংহ, কাজল মালাকার বলেন, ২০২০সাল থেকে এলাকায় জলপ্রকল্প শুরু হয়। বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের সংযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু, পাঁচবছরে বাড়ির ট্যাপকল দিয়ে এক ফোঁটাও জল পড়েনি। গরম পড়তেই বিভিন্ন নলকূপ বিকল হতে শুরু করে। এলাকার বিভিন্ন পুকুর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্যাঙ্কারে পরিবারপিছু অল্প কয়েকলিটার করে জল দেওয়া হচ্ছে। ওই জলে তৃষ্ণাই মিটছে না, রান্না সহ বাকি কাজের জন্য জল পাওয়া তো দূর অস্ত। সেজন্যই আমরা রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছি। পানীয় জলের সমস্যা না মিটলে আরও বড় আন্দোলন হবে।
পিএইচই’র জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুশান্ত মাজি বলেন, জলপ্রকল্পের কাজে কিছু সমস্যা ছিল। সেই কারণে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ওই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। পানীয় জলের জোগান দিতে আমরা এপ্রিল মাস থেকে এলাকায় ট্যাঙ্কার পাঠাচ্ছি। তা পর্যাপ্ত নয় বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। কীভাবে বেশি জল পাঠানো যায়, তা দেখা হচ্ছে।
নানা কারণে বাঁকুড়ায় পিএইচই’র একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ ঠিকসময়ে শেষ করা যায়নি। দুর্গাপুর ব্যারেজ ও মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল তুলে পরিশোধন করে বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু, বড়জোড়ার দেজুরির জলপ্রকল্প ছাড়া বাকিগুলির সুবিধা বাসিন্দারা সেভাবে পাচ্ছেন না। অসমাপ্ত জলপ্রকল্পের মধ্যে ‘মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটি’ ও ‘ইন্দপুর-তালডাংরা’ অন্যতম। তাই গরমে জেলাজুড়ে এক লক্ষ ট্যাঙ্কার পানীয় জল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু, চেষ্টা করেও কেন সময়ে জলপ্রকল্পের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না? পিএইচই’র এক আধিকারিক বলেন, ঠিকাদারদের ঢিলেমি ও জমিজটের কারণে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। জেলা প্রশাসন ও পুলিসের সহযোগিতায় বেশ কিছু সমস্যা মিটেছে। বাকি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে কারিগরি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে। তা সমাধানের জন্য ‌঩ইঞ্জিনিয়াররা টানা কাজ করছেন। আমরা আশা করছি, আগামী বছর গরমকালের আগে জেলার সিংহভাগ এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ