সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরের ডাঙ্গাপাড়ায় দোলঞ্চা নদীতে পাকা সেতুর দাবিতে সোমবার রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতু তৈরি না হলে ২৬’র বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বয়কট করা হবে বলে বিক্ষোভকারীরা হুমকি দিয়েছেন। গোটা কর্মসূচিতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ‘ব্রিজ নাই, ভোট নাই। আগে ব্রিজ পরে ভোট।’ কয়েকদিন আগেই এলাকায় এমন পোস্টার পড়ে। এদিন বিক্ষোভকারীরা সেই প্ল্যাকার্ড হিসেবে হাতে নিয়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। এদিন সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চললেও প্রশাসনের কোনও আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধি কেউই ঘটনাস্থলে যাননি। অবশেষে হতাশ হয়েই বিক্ষোভকারীরা এদিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিকুণ্ডা ১ ও ২ এবং পণ্ডিতপোঁতা ১ পঞ্চায়েতের সংযোগস্থলে ডাঙাপাড়ায় দোলঞ্চা নদীর উপর সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের।
সেতু না হওয়ায় প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাঙাপাড়া, আশ্রম, গোধাগছ, কাশিবাড়ি, কাঁঠালবাড়ি, বাঁশবাড়ি, মাজিদপুর, ডাঙাপাড়া জুনিয়র হাইস্কুল, প্রাইমারি স্কুল, রহটপুর মাদ্রাসার পড়ুয়ারও যাওয়া আসা করে। শুখা মরশুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করা যায়। কিন্তু বর্ষার সময় জলের প্রবল স্রোতে সেটি ভেঙে যায়। সেই সময় ডাঙ্গাপাড়া দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ১০-১৫ কিমি ঘুরপথে ইসলামপুর শহরে আসা যাওয়া করতে হয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাসিন্দারা ব্রিজের দাবিতে সরব। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতি ভোটেই রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্রিজের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষে ব্রিজ হয় না।
গত জানুয়ারিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। মাপজোখও করা হয়েছে। অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য জমির দরকার ছিল। বাসিন্দারা সেই জমি দান করেছেন। তারপরেও ব্রিজের দাবি পূরণ হয়নি। স্থানীয় এক দল যুবক এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। তাঁরাই ব্রিজের দাবিকে সামনে রেখে এদিনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারী হুসেন আক্তার বলেন, ব্রিজ না থাকায় মানুষের নদী পারাপার করতে প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। নেতা, মন্ত্রীরা বহুবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ হয়নি। তাই, প্রয়োজনে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হবে।