সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর- শালতোড়া রাজ্য সড়কের চিনপিনা গ্রামের অদূরে পরপর দুটি রেলগেট রয়েছে। ১০০ মিটার ব্যবধানে দুটি রেল গেটের জন্য এমনিতেই মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তারপরে বর্তমানে পুরনো রেল গেটের সামনে রেলের তরফ থেকে রাস্তার উপর ঢালাই করে দেওয়া সিমেন্ট উঠে গিয়ে মরণফাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। গেটের সামনে বেশ কয়েকটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই গর্তগুলিতে রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী বাইক, অটো, টোটো ঢুকে গিয়ে বিপত্তি ঘটছে। প্রায় দিন বেশিরভাগ গাড়ি পাল্টি খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মহকুমা এলাকার অনেক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের তরফ থেকে গর্তগুলি সংস্কার করায় রাস্তাটি চলাচলের যোগ্য করার আবেদন জানানো হয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, বিষয়টি কয়েকদিন আগেই নজরে এসেছে। গর্তগুলি যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় তার জন্য রেলের রাস্তা সংক্রান্ত কাজ করা দপ্তরে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর-শালতোড়া রাজ্য সড়কটি মহকুমা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটির সঙ্গে সরাসরি বাঁকুড়া, রানীগঞ্জ আসানসোলের যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কাশীপুর, সাঁতুড়ি এবং রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের রঘুনাথপুর যেতে হলে রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে কয়েক হাজার মালবাহী এবং যাত্রীবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। সেই রাস্তার মধ্যে চিনপিনা রেলগেট অবস্থিত। সেই গেটের রাস্তার মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।
এলাকার মানুষের দাবি, রাজ্য সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। তাই দ্রুত ওভারব্রিজ করা প্রয়োজন। তাহলে প্রচুর মানুষের সময় বাঁচবে। অনেক রোগী সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সাঁতুড়ি ব্লকের শিক্ষক উজ্জ্বল গোপ, নিত্যানন্দ মান্ডি বলেন, এক সময় চিনপিনাতে একটি মাত্র রেলগেট ছিল। তাই তেমন অসুবিধা হতো না। বর্তমানে ১০০ ফুট দূরত্বে দুটি রেল গেট হয়ে গিয়েছে। ফলে রেলগেটগুলি যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে রেলগেটের জন্য রোগী সঠিক সময় হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারার জন্য মারা গিয়েছে। আর বর্তমানে যে ভাবে রেলগেটের কাছে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাতে মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এমনিতেই মারা যাবে।
বাঁকুড়া লোকসভার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রচার করছে রেল ঢালাও উন্নয়নের কাজ করছে। অথচ সামান্য চিনপিনা গেটের কাছে যে গর্তগুলি হয়েছে সেগুলি সংস্কার করার প্রয়োজন বোধ করছে না। গর্তগুলির সংস্কারের জন্য ডিআরএমকে জানাচ্ছি। সংসদে যেদিন যাব সেই দিনেই চিনপিনা ওভারব্রিজের বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। -নিজস্ব চিত্র