নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ অংশ যুক্ত হওয়ায় কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকা বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। তাই ২০২৪ সালে কলকাতা পুলিশের এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। তবে এই ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনতে সদা তৎপর ছিল লালবাজার। তারই ফল মিলল হাতেনাতে। এক বছরের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ কমল পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি। ট্রাফিক বিভাগের কড়া নজরদারি ও লাগাতার সচেতনতা প্রচারের ফলে এই সাফল্য বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বুধবার ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ শীর্ষক বার্তা প্রচারের জন্য আয়োজিত ম্যারাথনের লোগো প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা।
২০২৩ সালে কলকাতায় পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫৯। পরের বছরই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভাঙড় ডিভিশনের আটটি থানা কলকাতা পুলিশের আওতায় আসে। ফলে বাসন্তী হাইওয়ে সহ দুর্ঘটনাপ্রবণ একাধিক এলাকা লালবাজারের আওতাভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯১। পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা যায়, কলকাতা পুলিশের পূর্বতন এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার ’২৩ সালের থেকে কমেছে। কিন্তু ভাঙড় এলাকায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে বেড়ে গিয়েছে প্রাণহানির সংখ্যা। নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। ভাঙড় এলাকার অন্তর্গত বাসন্তী হাইওয়েতে বিশেষ নজরদারি শুরু করে তারা। প্রতিটি বাঁকে বসানো হয় কনভেক্স মিরর। গতি কমাতে ‘রাম্বল স্ট্রিপ’ ইনস্টল করা হয় রাস্তায়। সেই সঙ্গে বেপরোয়া চালকদের দাপট কমাতে বাসন্তী হাইওয়েতে এএনপিআর ক্যামেরা ও স্পিড ক্যামেরা বসানো হয়। লাগাতার জরিমানা, ধরপাকড়ের ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এদিন সিপি মনোজকুমার ভার্মা বলেন, ‘গত ১১ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরে গত বছরের তুলনায় পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এক বছরের মধ্যে ফেটালিটি রেট ১৫ শতাংশ কমেছে, সম্প্রতি কোনও মেট্রো শহরে এমনটা হয়নি। সেদিক থেকে কলকাতা সেরা’। তবে আত্মতুষ্ট হতে নারাজ সিপি। বাহিনীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘এখনও বছর শেষ হতে এক মাসের বেশি বাকি আছে। সতর্ক থাকতে হবে।’
এদিন আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাফ ম্যারাথনের লোগো প্রকাশ করা হয়। মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, কলকাতা পুলিশের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ হাফ ম্যারাথনে যোগ্যতামান অর্জন করতে পারলে তাঁরা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। সিপি বলেন, ‘এ বছর আমাদের এই প্রতিযোগিতায় পার্টনার হয়েছে মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া। ১০ ও ২১ কিলোমিটার, দু’টি বিভাগের জন্য বয়সভিত্তিক বেশ কয়েকটি গ্রুপ করা হয়েছে। তাঁরা যোগ্যতামান অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।’ আগামী ১৮ জানুয়ারি ভোর ৫টায় রেড রোড থেকে এই হাফ ম্যারাথন শুরু হবে।