Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিনগরের চর দুর্গাপুরের বারকালীর পুজো ঘিরে ভক্তের সমাগম, উন্মাদনা

রানিনগরের চর দুর্গাপুরের বারকালীর পুজো ঘিরে ভক্তের সমাগম, উন্মাদনা
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: অমাবস্যা কিংবা পূর্ণিমা তিথি ধরে নয়, রানিনগরের চর দুর্গাপুরে কালীপুজো হয় অগ্রহায়ণ মাসের শেষ মঙ্গলবারে। এলাকায় বারকালী নামে পরিচিতি থাকলেও অসময়ের এই কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। সীমান্তের এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস, নানা লোককথা। তবে ঠিক কতদিনের পুরনো পুজো তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুজোয় যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। হয় ছাগ বলি। বসে মেলাও। সবমিলিয়ে অসময়ের কালীপুজো ঘিরে চর হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র।
Advertisement
রানিনগরের সীমান্ত ঘেঁষা চর দুর্গাপুরে কালীমন্দিরে ওই পুজো হয়ে থাকে। জনশ্রুতি রয়েছে, শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজো শুরু হয়েছিল দেশভাগের আগের অবিভক্ত বাংলায়। অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহীর টলটলি নামের কোনও এক গ্রামে বহুকাল ধরে চলত এই কালীপুজো। সেখানে খয়ের কাঠের কাঠামোর উপরে তৈরি করা হতো কালীমূর্তি। চাঁদোয়া টাঙানোর জন্য খুঁটিও থাকতো খয়ের কাঠের। তার নীচেই পুজো হতো বারকালীর। দেশভাগের পরে সেখানকার হিন্দুরা এদেশে চলে আসে। লোকমুখে শোনা যায়, ওপারের লোকেরা এদেশে চলে আসার পর তাঁরা স্বপ্নাদেশ পায় ওই কালীপুজোকে এপারে নিয়ে আসার। সেই স্বপ্নাদেশ পেয়েই ওই কালীকে পুনরায় স্থাপন করা হয় চরের মাটিতে। পরে ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের চাঁদায় তৈরি করা হয়েছে একটি বড় মন্দির। বর্তমানে সেই মন্দিরের মধ্যেই প্রতিবছর ২৫ ফুটের বেশি উচ্চতার প্রতিমার আরাধনা করা হয়। 
বারকালীর নামকরণের পেছনেও রয়েছে নির্দিষ্ট কারণ। শোনা যায়, অন্যান্য পুজো অমাবস্যা কিংবা পূর্ণিমা তিথি ধরে হলেও এই পুজো প্রথম থেকেই অগ্রহায়ণ মাসের শেষ মঙ্গলবার হয়। আর সেই ‘মঙ্গলবার’ শব্দের শেষে ‘বার’ শব্দটি থেকেই এখানকার কালীপুজোর পরিচয় বারকালী নামেই।
প্রতিবছরের মতো এবছরও অগ্রহায়ণ মাসের শেষ মঙ্গলবার পুজো শুরু হয়েছে। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। পাশাপাশি ৩৫টি মানতের কালীপ্রতিমার পুজোও হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকেও কেউ না কেউ পুজোয় যোগ দিতে আসেন। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ভিসা না মেলায় এবারে সেই সম্ভবনা নেই বলেই মনে করছে কমিটির সদস্যরা। অসময়ের এই কালীপুজোকে ঘিরে পুরো গ্রাম যেন মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। চর দুর্গাপুর সর্বজনীন কালীপুজো উৎসব কমিটির সম্পাদক দ্বিজেন মণ্ডল বলেন, প্রতিবছর এখানকার মানুষ এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকে। পুজো ঘিরে পুরো গ্রাম উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে। এইবছরও প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটতে শুরু করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ