Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিগঞ্জের রাস্তায় একের পর এক মিলছে শিশুকন্যার দেহ!

রানিগঞ্জের রাস্তায় একের পর এক মিলছে শিশুকন্যার দেহ!
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সদ্যোজাতের দেহ মুখে নিয়ে ছুটছে রাস্তার কুকুর। রানিগঞ্জে বুধবারের এই ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীদের শিরদাঁড়ায় বইয়ে দিয়েছিল হিমেল স্রোত। কুকুরটির মুখ থেকে সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে দেখা যায়, শিশুটি মৃত এবং কন্যাসন্তান। প্রাথমিক মনে করা হয়েছিল, কোনও অমানবিক দম্পতি ডাস্টবিনের কাছে তাদের সদ্যোজাত সন্তান ফেলে দিয়ে যায়। পুলিসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। উল্লেখ্য, এর আগেও রানিগঞ্জের ডাস্টবিন থেকে শিশুকন্যা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি অবাঙালি সম্প্রদায়ের ম঩ধ্যে এখনও কন্যা সন্তানকে নিয়ে নানা নেতিবাচক সংস্কার রয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই তারা ভ্রুণের লিঙ্গ পরীক্ষা করায়। এই ঘটনার সঙ্গে ওই সম্প্রদায়ের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
Advertisement
আসানসোল পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দিব্যেন্দু ভগত বলেন, এই ঘটনার প্রথম নয়, আগেও রানিগঞ্জ থেকে সদ্যোজাত কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিছু মানুষের মধ্যে এখনও কন্যা বিদ্বেষ রয়ে গিয়েছে। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, রানিগঞ্জের নারী ও পুরুষের অনুপাত গতবছর উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। আমরা তারপরই থেকেই বিশেষ নজরদারি ও সচেতনতা প্রচার শুরু করি। এখানে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ করার প্রবণতা রয়েছে। যা আইনত অপরাধ। আমাদের নজরদারি ও সচেতনতা প্রচারে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রানিগঞ্জের রাস্তা থেকে একাধিক সদ্যোজাত শিশুকন্যা পাওয়া যাওয়ার ঘটনা স্বাস্থ্যদপ্তর গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমরা সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে সাম্প্রতিক প্রসবের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখছি। 
রানিগঞ্জ মূলত শিল্পশহর। অধিকাংশ মানুষেরই জীবিকা ব্যবসা। বাঙালির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বসবাস এখানে। তার মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। ওইরকমই একটি সম্প্রদায়ের বদ্ধ ধারণা, ব্যবসা সামলাতে পারে পুত্র সন্তানরা‌ই। কন্যা সন্তান তাদের কাছে অনাকাঙ্খিত। ফলে ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে পুরুষ ও স্ত্রীর জন্মহারের বিস্তর ফারাক দেখা যায়। গত বছর দেখা গিয়েছে, এই অনুপাত হরিয়ানার পুরুষ-নারীর অনুপাতকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। তারপরই স্বাস্থ্যদপ্তর নড়েচড়ে বসে। প্রতি ১০০০ জন পুরুষ পিছু নারীর সংখ্যা ন’শোর নীচে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর আসে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণের একটি চক্র সক্রিয়। অনেক সময়ে অতি গোপনে কন্যাভ্রুণ হত্যাও হচ্ছে। তারপরই হাসপাতালে, নার্সিংহোমে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নজরদারি চলতে থাকে। তারপরও সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের এই অকাল পরিণতি রীতিমতো বিড়ম্বনায় ফেলেছে স্বাস্থ্যদপ্তরকে। 
জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি একটি প্রকল্প রয়েছে, ‘ক্রেডেল বেবি রিসেপশন সেন্টার’। এই প্রকল্পে প্রতিটি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে দোলনা রাখতে হবে। যেখানে কোনও দম্পতি চাইলে তাঁদের সন্তানকে সেখানে শুইয়ে দিয়ে চলে যেতে পারেন। এরপর প্রশাসন সেই সন্তানকে দত্তক দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। যদিও জেলার অধিকাংশ হাসপাতালে সেই সুবিধা চালু হয়নি। তাহলে হয়তো অনাকাঙ্খিত সদ্যোজাতদের এইভাবে মৃত্যু হতো না। শিশু সুরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, কোনও অভিভাবক যদি কন্যা সন্তান পালনে অপরাগ হন, তবে তাঁরা সন্তানকে ‘স্যারেন্ডার’ করার আবেদন করতে পারেন। কিন্তু কোনও ভাবেই সদ্যোজাতকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া মেনে নেওয়া যাবে না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ