নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তিন ‘বাদশা’র আতঙ্কে ঘুম উবেছে রানিগঞ্জবাসীর। বাইক চুরি, ছিঁচকে চুরি থেকে শুরু করে একের পর এক ঘর লুট করছে তারা। বিভিন্ন সময়ে পুলিসের জালে ধরাও পড়ছে। কিন্তু জামিন পেলেই ফের অপারেশন। আর এই তিন ‘বাদশা’ বলতে বাদশা খান, বাদশা শেখ ও বাদশা। পুলিসের চোখে এদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাদশা খান। রানিগঞ্জ থানাতেই রয়েছে ১৩টি মামলা। তার স্ত্রী চোরাই আংটির উপর লেখা নাম পাল্টাতে আসে। পুলিস সেই সূত্র ধরে একটি বাড়ি চুরির কিনারা করে। এরপর বাদশার বাড়ি তল্লাশি করতেই একের পর এক চুরির কিনারা করে ফেলছে তদন্তকারীরা। স্বভাবতই তিন বাদশা পুলিসের মাথা ব্যাথারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার তিন দুষ্কৃতীকে জালে তুলে শহরবাসীকে স্বস্তি দিতে চাইছে পুলিস। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, সাম্প্রতিক রানিগঞ্জ থানার পুলিস একাধিক চুরির ঘটনার কিনারা করে চুরির সামগ্রী উদ্ধার করেছে। বাদশা খানকে গ্রেপ্তার করে বড় চুরির কিনারা হয়েছে।
Advertisement
চলতি মাসে রানিগঞ্জরব গির্জাপাড়ায় দুটি বড় ঘর লুটের ঘটনা ঘটে। একটি বাড়িতে সর্বস্ব লুট হয়েছে। গৃহস্থের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল বিয়ের আংটি পর্যন্ত চোরে নিয়ে গিয়েছে। পুলিসকে জানানো হয়েছিল বিয়ের আংটিতে নাম লেখা আছে দীপক। পুলিস তারপর থেকেই প্রতিটি সোনার দোকানে বাড়তি নজর রাখা শুরু করে। পুলিসের একটি সোর্স খবর দেয়, এক মহিলা সোনার দোকানে এসে আংটি থেকে দীপক নাম মুছে আব্বাস নাম লিখতে দিয়েছে। পুলিস মহিলাকে চিহ্নিত করে। জানা যায়, সেই কুখ্যাত চোর বাদশা খানের স্ত্রী। পুলিস নিশ্চিত হয়, এই চুরি বাদশারই কীর্তি। বাদশাও আগে গির্জাপাড়ায় থাকত। একাধিকবার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তারের পর সে এখন বল্লভপুরে ঘরভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকছে। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে পুলিস বাদশাকে গ্রেপ্তার করে। বাদশাকে নিয়ে তার বাড়ি তল্লাশি করতেই নানা চোরাই সামগ্রী উদ্ধার হয়। সেই সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১৯০৬ সালের একটি রুপোর কয়েন। সাম্প্রতিক চুরির অভিযোগ পাওয়া গৃহস্থের কাছে এনিয়ে খোঁজ করতেই জানা যায়, গির্জাপাড়ায় যে দ্বিতীয় চুরিটি হয়েছিল তার বাড়িতে ছিল প্রাচীন এই মুদ্রা। দ্বিতীয় মামলাতেও বাদশাকে হেফাজতে নিয়ে তার বাড়ির লুটের সামগ্রী উদ্ধার হয়। শুক্রবার ডেপুটি পুলিস কমিশনার ধ্রুব দাস সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। দু’টি ঘর থেকে মিলিয়ে প্রায় চার লক্ষ টাকার সামগ্রী পুলিস উদ্ধার করেছে। এই বাদশা খানই রানিগঞ্জ থানার পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল ১৪টি বাইক চুরির অভিযোগ।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের মায়াবাজারের জামাই বাদশা চুরির সামগ্রী লুকোতে শ্বশুরবাড়িকেও ব্যবহার করে সে। আরেক বাদশা শেখও একই ভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে পানাগড়ে শ্বশুর বাড়িতে মাল পাচার করে দেয়। এদের বাঁধাধরা উকিল রয়েছে। পুলিস গ্রেপ্তার করলেই তাদের জামিন পাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়। জামিন পেলেই পরবর্তী অপারেশনের ছক করে ফেলে তারা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের মায়াবাজারের জামাই বাদশা চুরির সামগ্রী লুকোতে শ্বশুরবাড়িকেও ব্যবহার করে সে। আরেক বাদশা শেখও একই ভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে পানাগড়ে শ্বশুর বাড়িতে মাল পাচার করে দেয়। এদের বাঁধাধরা উকিল রয়েছে। পুলিস গ্রেপ্তার করলেই তাদের জামিন পাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়। জামিন পেলেই পরবর্তী অপারেশনের ছক করে ফেলে তারা।



