Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক চার লেনের করতে তৎপরতা

রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক চার লেনের করতে তৎপরতা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রুট সমস্যা মিটেছে। বীরভূমের উপর দিয়ে যাওয়া দুই লেনের ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক ফোর লেনের হাইওয়ে করতে দিল্লিতে অনুমোদনের জন্য রুটম্যাপ পাঠানো হল। জনবহুল ও বাজার এলাকায় ফোর লেনের বাইপাসও তৈরি হবে। সেজন্যই জমি অধিগ্রহণ জরুরি ছিল। অবশেষে কয়েক মাস ধরে বাসিন্দাদের সঙ্গে সভা করে চূড়ান্ত সম্মতি মিলেছে। সেই রুটম্যাপই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সড়কের নির্বাহী বাস্তুকার জয়ন্ত গড়াই। রানিগঞ্জ থেকে মোড়গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৬০কিমি। বীরভূম জেলার দুবরাজপুর, সিউড়ি, মহম্মদবাজার, মল্লারপুর, রামপুরহাট ও নলহাটির বুক চিরে চলে যাওয়া এই জাতীয় সড়ক মিশেছে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়ক। স্থানীয় তো রয়েছেই, দূরপাল্লার বহু বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। যদিও শহর এলাকা সহ বেশ কয়েকটি জনবহুল গ্রামের কাছে এই সড়কে নিত্য যানজট হচ্ছে। কোথাও আবার সড়কের ফুটপাত চলে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের দখলে। আবার কোথাও অলিখিত পার্কিং জোন গড়ে উঠেছে। স্বভাবতই ২০ফুটের চওড়া এই সড়ক কোথাও ১২-১৫ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। তার উপরে রয়েছে টোটোর উৎপাত। কোথাও আবার সড়কের ধারে হাসপাতাল, নার্সিংহোম। ফলে ভিড়, যানজট লেগেই থাকে। যার জেরে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। তেমনই সড়কে যানবাহনের গতি কমে এসেছে। ভোগান্তি বাড়ছে। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২সালের শেষের দিকে এই সড়ক ফোর লেনের করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সড়কের শুরু থেকে শেষ পুরোটাই ফোর লেনের হবে। সেইমতো জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একটি নকশা করে দিল্লিতে পাঠায়। সবুজ সংকেত মিলতেই এলাকার বাসিন্দাদের সেই নকশা দেখানো হয়। তাতে বাইপাস নিয়ে বেশকিছু মানুষ আপত্তি তোলেন। জানা গিয়েছে,  দুবরাজপুর, মল্লারপুর, নলহাটি ও রামপুরহাটে সড়কের ধারে বাজার, এছাড়া একাধিক গ্রামীণ জনবহুল এলাকা রয়েছে। সেখানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিয়ে পাবলিক কনসালটেন্ট মিটিং হয়। জনবহুল এলাকায় বাইপাস রাস্তা, কোথায় জল বেরনোর জন্য সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন, জমি অধিগ্রহণ সহ নানা সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত মতামত নেওয়া হয়। অনেকে কৃষি, বাস্তু ও জীবন-জীবিকা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অবশেষে একাধিকবার সেই সভা করে সকলের সম্মতি নিয়ে রুটম্যাপ ফাইনাল করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সেটাই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য‌ ঩দিল্লি পাঠানো হয়েছে।
জয়ন্তবাবু বলেন, পাবলিক কনসালটেন্ট মিটিংয়ে রুটম্যাপ ফাইনাল হয়েছে। যেখানে বাইপাস হবে সেখানে ৫০মিটার সড়ক হবে। আর যেখানে সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে সেখানে হবে ৪৫মিটার। রামপুরহাটের মনসুবা মোড়ের আগে থেকে বাইপাস হয়ে মেডিক্যাল কলেজ পেরিয়ে বাটাইল গ্রামের কাছে মিশবে সড়ক। মল্লারপুরের রায়পাড়ার আগে থেকে বাইপাস হয়ে বাহিনামোড়ের পরে মিশবে। এছাড়া নলহাটিতে ব্রাহ্মণী নদীর ব্রিজ পেরিয়ে পেট্রল পাম্পের আগে থেকে বাইপাস হয়ে গোপালপুর গ্রামে মিশবে। একইভাবে দুবরাজপুরে বাইপাস হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন আসার পর ডিপিআর বানিয়ে পাঠানো হবে। তারপর অর্থ বরাদ্দ হবে। যানবাহনের চাপ থাকায় দ্রুত এই সড়ক ফোর লেনের ছাড়া  উপায় নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ